লোহাগড়ায় ১১০ বছরের বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা

নড়াইল  প্রতিনিধি :  নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের সারোল-বাগডাঙ্গা গ্রামে হাজেরা বেগম নামে ১১০ বছরের এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে  হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।শুক্রবার (৪ জানুয়ারী) দিনগত রাত ৩টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।লোহাগড়া থানার ওসি প্রবীর বিশ্বাস জানান, সারোল-বাগডাঙ্গা গ্রামের মৃত আমির হোসেন খানের স্ত্রী বৃদ্ধা হাজেরা বেগম শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মাঝ রাতে দুর্বৃত্তরা বাড়ির পশ্চিমে পুকুর সংলগ্ন একটি জমিতে নিয়ে জবাই করে হত্যা করে।খবর পাওয়ার পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং  শনিবার সকালে মৃতদহে নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নিহত হাজেরার দুই ছেলে লুৎফার রহমান খান ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনষ্টেবল আকরাম হোসেন খানের সঙ্গে চাচাতো ভাই আবুল কালাম আজাদ খানের জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরে মাস দুয়েক আগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনষ্টেবল আকরাম হোসেন খানকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে প্রতিপক্ষ চাচাতো ভাই ও তার সমর্থকেরা। কেউ কেউ মনে করছেন এ বিরোধের জের ধরেই হাজেরাকে খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

তবে চাচাতো ভাই আবুল কালাম আজাদ খানকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।

নিহতের পুত্রবধু লাইলী বেগম বলেন, ‘আমার শাশুড়ি তিন বছর ধরে চলাফেরা করতে পারতেন না। ঘরের মধ্যে ল্যাট্রিন করে দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ পোতার টিনের ঘরে শাশুড়ি একা ঘুমিয়ে থাকে। সে জন্য তার সঙ্গে আমার ভাইয়ের ছেলে আল আমিন ঘুমিয়ে ছিল। আল-আমিন মাঝরাতে প্রস্রাব করতে গেলে আমার শাশুড়িকে দেখতে না পেয়ে আমাদের ডেকে উঠায়। আমরা খোঁজাখুজি করে না পেয়ে আশেপাশের লোকজন ডাক দেই। বহু খোঁজাখুজির পর বাড়ির পশ্চিম পাশের পুকুরের পশ্চিপাড়ে একটি জমিতে গলা কাটা অবস্থায় দেখতে পাই। ঘরের কাঠের বেড়ার একটি তক্তা খুলে সেখান দিয়ে তেতরে প্রবেশ করে দরজা খুলে আমার শাশুড়িকে বের করে নিয়েছে। কারা এমন সর্বনাশ করলো জানি না। আমরা এর বিচার চাই’।

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরফুদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।’