শত শত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

শত শত রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে পাঠাচ্ছে সৌদি আরব

সৌদি আরব তাদের দেশে কয়েক বছর ধরে আটকে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো অব্যাহত রেখেছে। কিছু ভিডিও ফুটেজের উদ্ধৃতি দিয়ে রোববার একথা জানায় লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই (এমইই)।

মিডল ইস্ট আইয়ের সাংবাদিক আরিব উল্লাহ, তার টুইটার হ্যান্ডলে রোববার একটি ভিডিও পোস্ট করে লেখেন, ‘#ব্রেকিং (নিউজ) সৌদি সরকার শত শত রোহিঙ্গা শরণার্থীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে।’

‘এখানে একটা ভিডিও পোস্ট করলাম যেটা আমাকে শুমাইসিতে বন্দি একজন পাঠিয়েছেন। এতে রোহিঙ্গাদের লাইন করে, হাতকড়া পরিয়ে দেশ থেকে বের করে দেয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে,’ পোস্টে লেখেন তিনি।

এই ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, পাঁচ-ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরবে থাকা এসব রোহিঙ্গাদের জেদ্দার শুমাইসি ডিটেনশন সেন্টারে রোববার জড়ো করা হয়েছে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য।

একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য জড়ো করা কয়েক ডজন রোহিঙ্গাকে গোপনে ভিডিও করছেন বন্দী আরেকজন রোহিঙ্গা।

ভিডিওতে একজন রোহিঙ্গা বলেন, তিনি গত ছয় বছর ধরে সৌদি আরবে আছেন কিন্তু এখন তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে যেখানে তিনিও অন্যান্য রোহিঙ্গাদের মতো শরণার্থী হয়ে থাকবেন।

‘আমি পাঁচ-ছয় বছর ধরে এখানে আছি কিন্তু, ওরা আমাকে এখন বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। অনুগ্রহ করে আমার জন্য দোয়া করবেন,’ বলেন তিনি।

কয়েকজন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে না চাওয়ায় তাদের হাতকড়া পরিয়ে রাখা হয়।

একটি ভয়েস রেকর্ডিংয়ে একজন রোহিঙ্গা জানান, ‘ওরা আমাদের কক্ষে মাঝরাতে এসে আমদেরকে ব্যাগ গুছিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে বলে। ওরা আমাকে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে এবং এখন অপেক্ষা করতে বলছে।’

রোহিঙ্গা মানবাধিকার কর্মী নেয় সান লইন বলেন, এসব আটক এসব রোহিঙ্গাদের সৌদি আরবেই মুক্তি দেয়া হেলে এরা বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা তাদের পরিবারকে সাহায্য করতে পারত। কিন্তু তার বদলে এদেরকেই বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।

‘ওরা তো অপরাধী নয় যে হাতকড়া পরিয়ে রাখতে হবে। আমি খুবই দুঃখিত যে সৌদি কর্তৃপক্ষ এদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করছে/এদেরকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করছে। এখন এদেরকে শরণার্থী শিবিরে পাঠানো হলে বাংলাদেশে শরণার্থীদের সংখ্যা আরও বাড়বে,’ বলেন লইন।

শুমাইসি ডিটেনশন সেন্টারে আটক অনেক রোহিঙ্গা সৌদি আরবে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের পাসপোর্ট নিয়ে। সেগুলো তারা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে জোগাড় করেছিলেন বলে জানায় এমইই।