দুর্নীতি: মাস দুয়েকের মধ্যেই ‘করে দেখাবে’ দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক>এবার আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্সের’ ঘোষণা থাকায় ‘আত্মবিশ্বাসী’ দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই দুর্নীতির রোধে অগ্রগতি দৃশ্যমান করবেন তারা।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নুতন মন্ত্রিসভার সদস্যরা কাজ শুরু করার দিনই দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “আমরা আগের চেয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। কারণ বর্তমান সরকারের ম্যান্ডেট ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান। আমরা প্রত্যাশা করি, সরকার আমাদেরকে সকল প্রকার সহযোগিতা করবে।”

গেল নভেম্বরেই দুর্নীতি রোধে নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে তার জন্য সমাজে পেশি শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্ম্যকে দায়ী করেন ইকবাল মাহমুদ।

এই পেশী শক্তি সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “কে সিদ্ধান্ত নেয়, কে ক্ষমতায় থাকে, তার উত্তর নিশ্চয় আপনার কাছে আছে। আমি এটুকুই বলব, সমাজের পেশি শক্তি ও কালো টাকার দৌরাত্ম্যের কারণে আমরা জনগণের বিশ্বাসের জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি।”

পেশি শক্তি-কালো টাকার দৌরাত্ম্যে দুদক ব্যর্থ: চেয়ারম্যান

প্রায় তিন বছর ইকবাল মাহমুদের দুদক চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ছিল, এখনও তারাই ক্ষমতায়। তবে এবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণাই আত্মবিশ্বাসী করছে তাকে।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের জন্য যা যা করা দরকার আমরা করব। দলমত নির্বিশেষে আমরা কারো দিকে তাকাব না।”

নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য, স্বাস্থ্য-শিক্ষা বাণিজ্যসহ সব জায়গায় যে সব দুর্নীতি-অনিয়ম রয়েছে, তা প্রতিরোধ ও দমনের চেষ্টা করবেন বলে জানান সাবেক আমলা ইকবাল মাহমুদ।

“দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে। আমরা কোনো বাধাই মানব না।”

নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের হলফনামা খতিয়ে দুর্নীতি অনুসন্ধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ইকবাল মাহমুদ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা প্রার্থীদের হলফনামা ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করেছি। এটা নিয়ে কাজ করছি। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারাই দেশ চালাবে। তাই আমরা প্রত্যেকটা হলফনামা পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে দেখব।”
সাবেক কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “মন্ত্রী মহোদয়ের বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়া কঠিন। সাবেক বা বর্তমান বলে কোনো কথা নেই, দুর্নীতিবাজ হিসেবে খ্যাত, দুর্নীতির গন্ধ যেখানে আছে আমরা সেখানে থাকব। আপনারা যদি প্রশ্ন করেন সাবেক মন্ত্রী, সাবেক সরকারের অমুক; নো, উই উইল নট ডিফারেন্ট ফর অ্যানিবডি। আমরা সবাইকে একই পাল্লায় মাপতে চাই।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দুর্নীতি যিনি করেছেন বা করবেন আমরা তাদের ধরে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেব।”
সদ্য বিদায়ী কোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে দুদক কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযোগ যদি থেকে থাকে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করব, আমরা দৃশ্যমান কিছু করব। আপনারও অভিযোগ দিতে পারেন। কথা এইটুকুই বলতে পারি যে, আপনারা এক মাস দুই মাসের মধ্যে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবেন। এটা আমার ডিউটি।”

দুই মাসের মধ্যে কেন- এ প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “গত তিন মাসে কৌশলগত কারণে আমরা খুব বেশি কাজ করতে পারিনি। ওই কাজটা পুষিয়ে নেওয়ার জন্যই দুই মাসের কথা বলেছি।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “শুধু বেসিক ব্যাংকই নয় অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি বিষয়ে অগ্রগতি দেখতে পাবেন। আর্থিক খাতসহ সকল খাতের দুর্নীতির বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স।

“তবে কতগুলো বিষয়ে আমাদের প্রধান ফোকাস থাকবে। আর্থিক দুর্নীতি এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আমরা আমাদের পরিপূর্ণ শক্তি দিয়ে আর্থিক দুর্নীতি বন্ধ করার চেষ্টা করব।”