যশোরে ট্রাক চালক সোহেল হত্যা মামলায় আটক চোর শাহিনের আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরের মুড়লি এলাকায় ট্রাক চালক সোহেল রানা হত্যা মামলার প্রধান আসামি শাহিন ওরফে চোর শাহিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী গেটম্যান সোহেলকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে এমন সন্দেহে ট্রাকচালক সোহেলকে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের সাথে তারা ৭/৮ জন জড়িত বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছে আটক চোর শাহিন। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো.বুলবুল ইসলাম আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। শাহিন সদর উপজেলার রামনগর খাঁ পাড়ার নুর মোহাম্মদের ছেলে।
শাহিন ওরফে চোর শাহিন জনিয়েছে, ঘটনার কয়েকদিন আগে গেটম্যান সোহেলকে পুলিশ আটক করে। পরে তাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়। ট্রাক চালক সোহেল পুলিশকে সংবাদ দিয়ে গেটম্যান সোহেলকে ধরিয়ে দিয়েছে বলে তার সন্দেহ হয়। এরপর ট্রাক চালক সোহেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে গেটম্যান সোহেল। গত ২৬ জুলাই রাতে ট্রাক চালক সোহেলকে বাড়িতে ডেকে আনে তিনজন। এরপর রেললাইনের উপর নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়। এরপর মুড়লির একটি পরিত্যক্ত টায়ার রি-রোলিং কারখানার আঙিনায় ট্রাক চালক সোহেলের লাশ মাটিচাপা দিয়ে সকলে চলে যায়। এ ঘটনার সাথে তারা ৭/৮জন জড়িত বলে জানিয়েছে শাহিন ওরফে চোর শাহিন।
মামলায় অভিযোগে জানা গেছে, ২৬ জুলাই রাত ১০ টার দিকে আসামি শাহিন, আসাদুল ও আল আমিন তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। শাহিন বাড়ি না ফেরায় খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে পরদিন রেললাইনের পাশে তার একটি স্যান্ডেল ও রক্ত দেখে মুড়লির একটি পরিত্যক্ত টায়ার রি-রোলিং কারখানার আঙিনা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে নিহতের মা বাদী হয়ে কোতয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে সিআইডি পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, এ মামলার এজাহারনামীয় আসামি চোর শাহিনকে সোমবার রাতে কেশবপুর উপজেলার বগা গ্রামের তার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এর আগে গেটম্যান সোহেল ও রাসেলকে আটক করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার চোর শাহিনকে আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।