ডুমুরিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুরের জীবনাবসান

ডুমুরিয়া ও চুকনগর প্রতিনিধি>
ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান আলী মুনসুর ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।) গতকাল বুধবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে জনপ্রিয় এই রাজনীতিকের বয়স হয়েছিলো ৬৩ বছর। তার স্ত্রী, এক পুত্র, এক কন্যা, নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহি রয়েছে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। ভান্ডারপাড়া imgগ্রামের সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মৃত আলহাজ্ব নহর আলী খান। আলী মুনসুরের একমাত্র ছেলে জিয়াউর রহমান জীবন নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিজ বাড়িতে ভাত খাওয়ার সময় আব্বু হঠাৎ বুকে যন্ত্রণাবোধ করে পড়ে যান। তাৎক্ষণিক জ্ঞানহীন অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে খুলনার নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
খান আলী মুনসুর ১৯৭৩ সালে ডুমুরিয়া এনজিসি এন্ড এনসিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ এবং মধুগ্রাম কলেজ থেকে ডিগ্রি পাশ করেন। ছাত্র জীবন থেকে তিনি রাজনীতিতে হাতে খড়ি দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে। তিনি ১৯৭৯ সালের ১২ ডিসেম্বর জাসদ থেকে জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদান করেন। ১৯৮১ সালে ডুমুরিয়া থানার সাবেক গ্রাম সরকার প্রধান ছিলেন। ১৯৮৪ সালে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে তিনি উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ওইপদে তিনি দুই বার দায়িত্বপালন করেন। এরপর দুইবার উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে নির্বাচিত হন তিনি। এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২০০১ সালে ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০০৩ ও ২০১১ সালেও তিনি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সুনামের সাথে তিনবার দায়িত্বপালন করেন। ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। খান আলী মুনসুর ছিলেন সদালাপী, সুমিষ্ঠভাষী, অতিথি পরায়ন ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ব্যক্তি। যে কারনে সকল শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন সমাদৃত। জনপ্রিয় ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক এ নেতার আকষ্মিক মৃত্যুতে গোটা উপজেলাবাসীর মাঝে এক শোকের ছায়া নেমে এসেছে, সবাই যেন শোকে বিহ্বল। শুধু জনপ্রতিনিধিত্বে নয়, রাজনীতিতেও তার পরিচিতি ছিল একজন সাদা মনের মানুষ হিসেবে। তার মৃত্যুর খবর শুনে বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগমসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয়পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ সকল রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ।
বিকেল ৫টায় উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদের আয়োজনে স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ চত্বরে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার ভান্ডারপাড়া গ্রামের নিজ পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জানাযা পূর্ব এক আলোচনায় বক্তব্য রাখেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মোঃ মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাড. শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, সহ-সভাপতি ডা: গাজী আব্দুল হক, মোল্লা আবুল কাশেম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আহসান হাবিব, উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি মো: নাজমুল হাসান খান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মওলানা সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল খোকন, ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা সরোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা শাহে নেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার, বিএনপি নেতা গাজী আব্দুল হালিম, খান ইসমাইল হোসেন, শেখ হাফিজুর রহমান, মোল্লা মোশিউর রহমান, শেখ সরোয়ার হোসেন, ফরহাদ হোসেন প্রমুখ।