বখাটের উত্ত্যক্তে বাঘারপাড়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঘারপাড়া>
বখাটের অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে অষ্টম শ্রেণির এক মাদ্রাসা ছাত্রী। অসুস্থ ছাত্রী এখন বাঘারপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবার বখাটের বিরুদ্ধে আইনি সহায়তা নিতে ভয় পাচ্ছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছে।
ওই ছাত্রী জানিয়েছে, ‘গত মঙ্গলবার বেলা তিনটায় মাদ্রসা ছুটি হয়। এরপর আমি ও আমার বান্ধবিরা বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হই। পথের মাঝে আমার নিজ গ্রাম উত্তর শ্রীরামপুরের ছাত্তার মাস্টারের লেবু বাগানের পাশে পৌঁছালে একই গ্রামের মফিজুর রহমানের বখাটে ছেলে আলাউদ্দীন(২২) আমাকে থামিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তোলে ও আমার হাত ধরে টানাটানি করে। আমি ছবি তোলাতে আপত্তি করলে সে আমাকে কয়েটা চড়ও মারে। ঘটনার সময় পাশের বাড়ির মহিলারা এগিয়ে আসলে আলাউদ্দীন চলে যায়। লজ্জায় আমি বাড়িতে যেয়ে কয়েক ধরণের অনেকগুলো ওষুধ খাই।’ বাঘারপাড়া হাসপাতালের বিছানায় বসে ওই ছাত্রীর মা জানিয়েছেন, ‘মেয়ে আমাকে প্রায়ই বলত আলাউদ্দীন তাকে বিরক্ত করে। ঘটনার দিন মেয়ে আমার বাড়িতে এসে কখন যে একগাদা ওষুধ খেয়েছে আমি তা টেরই পাইনি। ও যখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে তখন তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। মেয়ে আমার মরার ঘর থেকে ফিরে এসেছে। আলাউদ্দীন এমন বেয়াদপের বেয়াদপ যে, সে আমাকে দুইদিন মোবাইল ফোনে বলেছে তার সাথে আমার মেয়েকে বিয়ে দিতে হবে’।
বাঘারপাড়া হাসপাতালের চিকিৎসক সুব্রত কুমার দে জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার ওই ছাত্রীর পাকস্থলী পরিস্কার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সে বিষাক্ত কিছু একটা খেয়েছিলো। আপাতত ভয়ের কিছু নেই। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে।
বাঘারপাড়ার দয়ারামপুর ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ইয়াহিয়া আলী জানিয়েছেন, বিষয়টি জানার পর আমি নির্বাহী অফিসারকে ঘটনাটি জানিয়েছি। ছাত্রীর পরিবারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থার দিকে এগোবো।