বিকাশ প্রতারক ধরলো যশোর পিবিআই, আদালতে স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনারের বিকাশের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাত মামলায় মাহাবুর ওরফে হাবিব শেখকে আটক করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মাহাবুর জানায়, বিকাশে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়ার একটি চক্র আছে। এ চক্রের প্রধান দুই সদস্য তার আপন চাচাত ভাই। বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো.সাইফুদ্দীন হোসাইন আসামির এ জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। আটক মাহাবুর ওরফে হাবিব শেষে ফরিদপুর মধুখালির ডুমাইন গ্রামের আব্দুল মালেক শেখের ছেলে।
মাহাবুর ওরফে হাবিব শেখ জানিয়েছে, সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। সে দেড় বছর আগে এ প্রতারক চক্রের সাথে জড়িত হয়েছে। মাঝে মধ্যে মানুষের মোবাইলে ফোন দিয়ে লটারি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে থাকি। ২০১৮ সালের ২৫ মে তার দুই চাচাত ভাই অপরিচিত একজনের কাছ থেকে প্রতারণা করে ১০ হাজার টাকা তার মোবাইল ফোনের বিকাশ নম্বরে দেয়। এরপর তারা তার মোবাইলের বিকাশ থেকে টাকা তুলে নেয়। এ ছাড়া তারা আরও টাকা নিয়েছে কিনা সে জানেনা। তবে প্রতারণার মাধ্যমে এ টাকা নেয়ার সাথে সে সরাসরি জড়িত ছিলনা।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৮ মে বেলা ১১ দিকে যশোর জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার জাকির হোসেনের মোবাইলে অপরিচিত এক ব্যক্তি ফোন করে বলে ভুলবশত তার বিকাশ একাউন্ট থেকে ১০ হাজার টাকা চলে গেছে বলে ফেরত চায়। এরমধ্যে মোবাইলে একটি ম্যাসেজ আসে। সরল বিশ্বাসে তিনি তার দেয়া নম্বরে ৯হাজার ৮শ’ টাকা ফেরত দেন। এর কিছুক্ষণ পর অপর একজন বিকাশ এজেন্টের পরিচয় দিয়ে একাউন্টে সমস্যা আছে বলে আরও ১৫ হাজার টাকা দাবি করলে তার দেয়া নম্বরে আরও ১৫ হাজার টাকা দিয়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি বুঝতে পারেন প্রতারকচক্র তাকে ভুল বুঝিয়ে এ টাকা আত্মসাত করেছে। ৫ জুন তিনি এ ব্যাপারে অপরিচিত ব্যক্তিদের আসামি করে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মাহবুর ওরফে হাবিব খানকে আটক করে গতকাল আদালতে সোপর্দ করেন। মাহাবুর ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।