যশোরে মাদক উদ্ধারে গিয়ে অস্ত্র কারখানার সন্ধান পেল ভ্রাম্যমাণ আদালত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির একটি কারখানা আবিস্কার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। যে কারখানার ‘ক্রেতা পুলিশ’ বলে জানিয়েছে আটক গৃহকর্তা। এ কারখানায় গুলিও তৈরি হয়।
আটক ওই গৃহকর্তার নাম কামরুল ইসলাম (৫২)। তিনি সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। একই সাথে আদালত তার স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা (৩৪) এবং ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়ার নুর হোসেনের ছেলে আবুল বাশারকে (৩২) আটক করে।
যশোরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জামশেদুল আলম ও হাফিজুল হক জানান, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তারা যান সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রামের দাড়িপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে। সেখানে কামরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তারা দেখতে পান বিভিন্ন অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।
সেখান থেকে একটি আংশিক তৈরি পিস্তল, একটি খেলনা পিস্তল, দুইটি ম্যাগজিন, এক রাউন্ড গুলি, পাঁচটি কাটা গুলি, অস্ত্র তৈরির ডায়াস ও ইস্পাত খ- এবং ওয়ানস্যুটার গানের একটি নল বা ব্যারেল জব্দ করেন। এছাড়া অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
আটক কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানান, এ আগ্নেয়াস্ত্রগুলো সে তৈরি করে পুলিশের জন্য। ৪/৫ মাস আগে তৈরি করা অস্ত্র ও গুলি তার কাছ থেকে নেন নারায়নগঞ্জ পুলিশ অফিসের বর্তমান রিজার্ভ অফিসার এসআই জামাল হোসেন ও যশোর কোতয়ালি থানার আরো একজন উপপরিদর্শক। আরও অস্ত্র সে তৈরি করছিল যশোরের কোতয়ালি থানা, শার্শা থানা ও নারায়ণগঞ্জ থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য।
কামরুল আরও জানান, তার তৈরি অস্ত্রগুলো কোন ক্ষতি করে না, পুলিশ মামলার আলামত হিসেবে তাকে দিয়ে তৈরি করায়। প্রতিটি অস্ত্র সে গুলিসহ ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তিনি মূলত মাছের চাষ করেন। সময় পেলে এধরণের অস্ত্র তৈরি করেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, আটককৃতদের যশোর কোতয়ালি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হবে। তবে ওই স্থান থেকে কোন মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয়নি।
এ অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাথে ছিলেন যশোর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এসআই বদরুল হাসান।
তবে আটক আবুল বাশার জানিয়েছেন, তিনি একটি রাইচ মিল চালান। বুধবার দুপুরে তিনি ভ্যানে করে চাল দেয়ার জন্য কামরুলের বাড়িতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার সাথে তিনি জড়িত না। তবে এই ঘটনার সাথে আবুল বাশার জড়িত না বলে জানিয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাশার চাল দেয়ার জন্য তার বাড়িতে গিয়েছিলেন।
এদিকে আবিস্কৃত অস্ত্রের কারখানায় পুলিশের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে যশোরের চাঁচড়া ফাঁড়ির সাবেক কর্মকর্তা ও বর্তমানে নারায়নগঞ্জ পুলিশ লাইনের রিজার্ভ অফিসার (আরও) এসআই জামাল হোসেন বলেন, কামরুলকে তিনি একজন মাদকসেবী ও র‌্যাবের সোর্স হিসেবে চিনতেন। তিনি যশোরে দায়িত্ব পালনকালে কখনও তাকে তার দফতরে প্রবেশ করতে দেননি। নিজেকে রক্ষা করতে সে পুলিশের নাম বলছে।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনছার উদ্দিন বলেন, অবৈধ অস্ত্রের কারখানা উদ্ধার হয়েছে এটাই বড় কথা। অসাধু লোকেরা নিজেকে রক্ষা করতে মিথ্যাচারের আশ্রয় নেয়। এক্ষেত্রে এমনটা করা হচ্ছে বলে আমার ধারণা। পুলিশেরতো অস্ত্রের অভাব নেই। তারা কেন অস্ত্র তৈরি করাবে ? এছাড়া যশোরের পুলিশ কখনও অস্ত্র দিয়ে কাউকে ধরানোর মতো কাজ করে না।