কারিগর কামরুলের সহযোগিরা সতর্কাবস্থায়, ইয়াবার কারখানাও আছে যশোরে !

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়া এলাকার অস্ত্রের কারখানা থেকে আটক তিনজনকে ৫দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে আটকের পর রাতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়।
আসামিরা হলেন দাড়িপাড়ার আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে কামরুল ইসলাম, তার স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা এবং ভাতুড়িয়া পশ্চিমপাড়ার মৃত নুর হোসেনের ছেলে আবুল বাশার।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালি থানার এসআই মানিক চন্দ্র গাইন বলেছেন, আটক তিনজনকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠিয়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম হোসেনের কাছে ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। রিমান্ড শুনানি পরে হবে। তবে আসামিদের জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
এরআগে বৃহস্পতিবার রাতে কোতয়ালি থানার এসআই খবির হোসেন বাদি হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন।
এদিকে অস্ত্রের কারখানার সন্ধান এবং এই কারখানার ক্রেতা পুলিশ এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর আটক কামরুলের সহযোগিরা সতর্কাবস্থায় রয়েছে। এই সংক্রান্ত আরো তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু অস্ত্রের কারখানা নয় ইয়াবা তৈরির কারখানাও আবিস্কার করা যেতে পারে ভ্রাম্যমাণ আদালত খোঁজখবর নিলে।
পুলিশের দায়ের করা এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদুল আলম ও হাফিজুল হকের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক বদরুল হাসানকে সাথে নিয়ে চাঁচড়া ভাতুড়িয়া এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযানে যান। ভাতুড়িয়া দাড়িপাড়ায় আসামি কামরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রের কারখানা আবিস্কার করেন। আসামির ঘর থেকে একটি দেশি তৈরি পিস্তল, একটি খালি ম্যাগজিন, এক রাউন্ড গুলি, একটি লোহার তৈরি ব্যারেল এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জমাদি জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব অস্ত্রের জব্দ তালিকা তৈরি করে। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালতে এই ধারায় বিচারকাজ পরিচালনা এখতিয়ারভূক্ত নয়। সে কারণে কোতয়ালি থানায় একটি মামলা হয়।
চাঁচড়া এলাকার একটি সূত্রে জানাগেছে, অস্ত্রের কারখানার কারিগর কামরুলের একজন সহযোগী আছে। চাঁচড়া মধ্যপাড়ার জাহাঙ্গীর নামে ওই সহযোগী এখন সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে জানাগেছে। কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই কারখানার সাথে জড়িত কারা বা কারা তার কাছে গিয়ে অস্ত্র কিনতেন তা জানতে পারবে পুলিশ। তবে সব কিছু নির্ভর করছে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করবে কি-না। কারণ কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী রাবেয়া সুলতানা বুধবার ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানিয়ে ছিলেন, ওই অস্ত্রের ক্রেতা পুলিশ। পুলিশের অর্ডারে তারা অস্ত্র বানাতেন। ফলে মামলার তদন্তে পুলিশি প্রভাব থাকবে এটা ধারণা করা হচ্ছে।
অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকায় গোপনে তৈরি হয় ইয়াবা ট্যাবলেট। রায়পাড়ার জামতলা এলাকার রহিম নামে এক ব্যক্তি ওই ইয়াবার কারখানা খুলেছেন। ইয়াবা তৈরির মেশিন আছে তার কাছে। ফলে অর্ডার অনুযায়ী তিনি ইয়াবা ট্যাবলেট তৈরি করে দিতে পারেন। এই কারখানা তৈরিতে পুলিশের কোন সহযোগিতা আছে কি-না তা ভ্রাম্যমাণ আদালত তদন্ত করলে জানতে পারবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।