হত্যার অভিযোগ, দাফনের তিনমাস পর কৃষকের মৃতদেহ উত্তোলন


নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে হত্যার অভিযোগে দাফনের ৩ মাস পর কৃষক আব্দুস সাত্তারের মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মৃতদেহটি উত্তোলন করে বুধবার সন্ধ্যায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এসময় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ কর্মকতারা উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে লাশের ময়নাতদন্ত করেছেন চিকিৎসক। আব্দুস সাত্তার সদর উপজেলার রামনগরের কচুয়া গ্রামের মৃত ছমির বিশ্বাসের ছেলে। নিহতের ভাই আব্দুল গফুরের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের হামলায় মৃত্যু হলেও স্থানীয়দের চাপে ওই সময় ঘটনা গোপন করে মৃতদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
আব্দুল গফুর জানিয়েছেন, জমাজমি নিয়ে বিরোধের জেরে ৭ অক্টোবর দুপুরে সদরের কচুয়া গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে জিহাদ ও জিসান আব্দুস সাত্তারের উপর হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা এসময় তাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রাজারহাট মোড়ে পল্লী চিকিৎসকের কাছে। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাকে বাড়িতে নেয়া হয়। গফুর আরো জানান, ওই রাতেই স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাদের ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি দেন। আব্দুস সাত্তার পরের দিন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে কুইন্স হসপিটালে ভর্তি করা হয় মারপিটের ঘটনা গোপন করে। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হলে ২১ অক্টোবর তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসককে বলা হয়েছিলো হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হুমকির কারণে তারা প্রকৃত ঘটনা চেপে যান। ২২ অক্টোবর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আব্দুস সাত্তার। আব্দুল গফুর আরো জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী তাইজেল ইসলাম, তরিকুল, মকবুলসহ আরো কয়েকজন শুরু থেকেই হামলাকারীদের পক্ষ নেয়। তাদের হুমকিতে ওই সময় মামলা করাতো দূরের কথা প্রকৃত ঘটনা গোপন করে মৃতদেহ দাফন করতে বাধ্য হন। পরে ঝুঁকি নিয়ে তার ভাইকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে গত ৬ ডিসেম্বর যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়মিত মামলা হিসেবে (নম্বর ১৪/৬.১২.১৮) নথিভূক্ত হয়। এদিকে, কোতোয়ালি পুলিশ রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হলে তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের পরিদর্শক জামাল উদ্দিন জানিয়েছেন, গুরুত্বের সাথে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। হত্যার অভিযোগে মামলা হওয়ার পর আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাইয়েব-উর রহমানের উপস্থিতিতে কবর থেকে মৃতদেহটি উত্তোলনের পর বুধবার সন্ধ্যার পর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ আবারো পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে হত্যার অভিযোগ সঠিক কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষের হামলায় আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়েছে কিনা তা জানার জন্য আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট আসতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।