হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়েও বাঁচানো গেল না শিশু ফাহিমা খাতুনকে

নিজস্ব প্রতিবেদক>
হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় নিয়েও বাঁচানো গেল না শিশু ফাহিমা খাতুনকে। যশোরের বাঘারপাড়ার খাজুরায় মঙ্গলবার হেলপারের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে আহত হয়েছিল শিশুটি। বুধবার রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খাজুরা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রফিকুল ইসলাম। ফাহিমা খাজুরা বাজার এলাকার পল্লী চিকিৎসক আব্দুল লতিফের মেয়ে। সে সেকেন্দারপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করতো।
এলাকাবাসী জানিয়েছেন, ফাহিমার মৃত্যুতে তারা শোকাহত। বাসের চালক ও হেলপারের খামখেয়ালীপনায় এই শিশু নির্মম মৃত্যুর শিকার হলো। দুর্ঘটনা কবলিত বাসের চালক ও হেলপারের কঠিন শাস্তির দাবিতে তারা একাট্টা হয়েছেন। ফাহিমার দাফনের পর এলাকাবাসী সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নামবেন। এসআই রফিকুল ইসলাম জানান, স্কুল ছাত্রীকে চাপা দেয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। চালককে আটকের পর ঘাতক বাসও পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। হেলপারকেও পুলিশ খুঁজছে। ফাহিমার মৃত্যুর খবরে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। স্বজনরা জানিয়েছেন, ফাহিমার মৃতদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর রাতেই পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হতে পারে।
১৫ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে খাজুরা ফিলিং স্টেশনের সামনে বাস থেকে কয়েকজন নামছিলো। শিশু ফাহিমা নামার আগেই চালক বাস চালানো শুরু করে। এসময় হেলপারের ধাক্কায় পাঁ পিছলে নিচে পড়ে যায় ওই শিশু স্কুলছাত্রী। তখন বাসের পিছনের চাকা তার কোমরের নিচের অংশের উপর দিয়ে চলে যায়।
ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা বাস ভাঙচুর করে চালক শহিদুল ইসলামকে গণপিটুনি দেয়। যশোর-বাঘারপাড়া সড়ক অবরোধও করে। এদিকে, আশংকাজনক অবস্থায় ফাহিমাকে ওইদিন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন। ওই দিন বিকেলে হেলিকপ্টারযোগে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো।