যশোরে প্রতিবাদ সমাবেশে সন্ত্রাসী টাক ইব্রাহিমকে আটকের দাবি আ.লীগ নেতাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর শহরের নীলগঞ্জ বকচর হুশতলা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী, ধর্ষণ মামলার আসামি, সাংবাদিক নির্যাতনকারী, বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও যুবলীগ নেতার ওপর হামলাকারী ইব্রাহিম ওরফে টাক ইব্রাহিম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতারা।
গত শুক্রবার বিকেলে বকচর প্রাইমারি স্কুল মাঠে ইব্রাহিমকে আটক ও বিচারের দাবিতে সমাবেশ হয়েছে।
সমাবেশে বলা হয় সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই। এরা সুযোগ সন্ধানী। বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে টাক ইব্রাহিমের মতো সন্ত্রাসীদের কারণে। গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগের রাতে ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিঠুকে কুপিয়ে জখম করে ইব্রাহিম ও তার সহযোগিরা। এর আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে ক্যামেরা ভাঙচুর করে তারা। একটি ধর্ষণ মামলারও আসামি সে। ফলে তার মতো অভিযুক্তদের কারণে দলীয় ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তাকে ও তার সহযোগীদের প্রশ্রয় না দেয়ার জন্য নেতারা অনুরোধ করেন। একই সাথে মিঠু হত্যা চেষ্টাকারীকে আটকের দাবি জানানো হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের শহর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুল। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাবেক সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু। বক্তব্য রাখেন সুলতান মাহমুদ পরান, শেখ সাদেক আলী, শরীফ মুজিবুর রহমান, রাজিব হাসান, তৈয়বুর রহমান, আনিসুর রহমান, এলতাজ উদ্দিন রানা, আসাদুজ্জামান আসাদ, আবু জাফর ফারুক প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিজানুর রহমান মিঠু বকচর ষষ্টিতলা এলাকায় পুলিশিং ফোরামের রাত্রিকালীন পাহারা দিচ্ছিলেন। সে সময় ইব্রাহিম ও তার সহযোগিরা সেখানে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করছিল। তাদের নিষেধ করলে ইব্রাহিম ও তার সহযোগিরা ক্ষিপ্ত হয়। সোয়া ১২টার দিকে ইব্রাহিম ও তার সহযোগিরা আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, হকিস্টিক, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, বোমাসহ তারা সেখানে গিয়ে হামলা করে। এতে মিজানুর রহমান মিঠু মারাত্মক জখম হন। তাকে ওই রাতেই ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনায় মিঠু ইব্রাহিমসহ ৯জনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এরা হলো কোল্ড স্টোরেজ মোড়ের জিন্নাত আলীর ছেলে সুজন ওরফে ট্যারা সুজন, নীলগঞ্জ তাতীপাড়া এলাকার বিপ্লব, ইউসুফের ছেলে শাহিন, পারভেজ ওরফে গালকাটা পারভেজ, মনিরুল ড্রাইভার, রানা, ইউসুফ ও কদর। কিন্তু পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।