যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সেবিকাদের গুড়ো দুধ বাণিজ্য চলছেই

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গুড়ো দুধ বাণিজ্য চলছেই। চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্রে গুড়ো দুধের নাম না লিখলেও কতিপয় সেবিকা এই বাণিজ্যের সাথে জড়িত। বিষয়টি নিয়ে বিগত দিনে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশ হলেও তাদের দুধ বাণিজ্য বন্ধ হয়নি। বর্তমানে আরো বেড়েছে। কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে সুবিধা নিয়ে তারা গুড়োদুধ কেনার জন্য রোগীর স্বজনদের হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন শর্ট স্লিপ। যে কোনো রোগীকে গুড়ো দুধ কিনতে বাধ্য করছে তারা। হাসপাতালের পুরুষ ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড, লেবার ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ড, পুরুষ ও মহিলা পেইং ওয়ার্ডে দুধের নাম লেখা স্লিপ ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে সব চেয়ে বেশি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক রোগীর মুখে খাবার খাওয়ার ক্ষমতা থাকলেও রেহাই নেই। দুধ তাদের খেতেই হবে। কোম্পানি ভেদে প্রতি কৌটা দুধের দাম নেন দোকানিরা ৪শ’ টাকা থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত। সেবিকাদের চাপাচাপিতে অকারণে স্বজনদের দুধ কেনা বাবদ বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। একাধিক রোগীর স্বজন জানিয়েছেন, তাদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে দুধের স্লিপ দেয়াসহ নানা প্রতারণা করা হয়। অনেক সময় তারা বুঝেও কোনো প্রতিবাদ করেন না রোগীর চিকিৎসাসেবার স্বার্থে।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের একজন জেষ্ঠ্য চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গুড়ো দুধের স্লিপ দেয়ার বিষয়টি তার নজরেও এসেছে। তিনি একদিন নিষেধও করেছেন সব রোগীকে দুধ কেনার স্লিপ না দেয়ার জন্য। কিন্তু সেবিকারা শুনছেন না। যেসব রোগী মুখে খাবার খেতে পারে না তরল খাদ্য হিসেবে তাদের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়। তরল খাদ্যের বিষয়টি ব্যবস্থাপত্রে নোট থাকে। নিজেদের ইচ্ছামত যদি কোনো সেবিকা রোগীর স্বজনদের দুধ কিনতে বাধ্য করেন এটা অবশ্যই অনিয়ম। রোগীর স্বজন পারভিনা খাতুন, বিজলী খাতুন, আবুল কালাম, রমজান আলী জানান, গুড়ো দুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ওয়ার্ডে গিয়ে সেবিকাদের পাশে বসে থাকেন। তারাই নিজেদের কোম্পানির দুধের নাম লেখা ছোট কাগজ সেবিকাদের কাছে দিয়ে যান। বিষয়টি নিয়ে কথা হয় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটুর সাথে। তিনি দৈনিক স্পন্দনকে জানান, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের বাইরে সেবিকারা গুড়ো দুধ কেনার জন্য রোগীর স্বজনদের হাতে স্লিপ ধরিয়ে দেয়ার বিষয়টি অবশ্যই অনিয়ম ও দুঃখজনক। বিষয়টি তার জানা ছিলো না। গুড়ো দুধ বাণিজ্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।