মিন্দানাওয়ে মুসলমানদের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে খ্রিস্টানরাও

স্পন্দন আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে সেখানকার খ্রিস্টানরাও। ওই এলাকার স্বায়ত্তশাসনের জন্য নতুন যে আইন হয়েছে তা সবার জন্য শান্তির সুবাতাস বয়ে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাঙসামোরো অরগ্যানিক (মৌলিক) ল (বিওএল) শীর্ষক ওই আইনটি গত বছরের মে মাসে ফিলিপাইনের পার্লামেন্টে পাস হয়। আইনটির পক্ষে ভোট দেন ২২৭ জন। আর বিপক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ১১টি।

স্থানীয় ইভ্যাঞ্জিক্যাল খ্রিস্টান অ্যাল্ড্রিন পেনামোরা তুর্কি সরকারি গণমাধ্যম আনাদলুকে বলেন, ‘আমরা ওই আইনকে সমর্থন করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আইনটি এই অঞ্চলে ব্যাপক অবদান রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, আইনটির কারণে এখানকার খ্রিস্টান, মুসলিম (আদিবাসী), লুমাদস এবং অন্য সব মানুষের জন্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হবে।’

আইনটি কার্যকর হলে মুসলমানদের বিরুদ্ধে চলা অন্যায়ের চির অবসান হবে উল্লেখ করে অ্যাল্ড্রিন বলেন, ‘মোরো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুগ যুগ ধরে যে ঐতিহাসিক অন্যায় হচ্ছে তার অবসান হবে।’

দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের প্রচেষ্টা শেষে পাস হওয়া ওই আইনটির ওপর আগামীকাল গণভোট হবে। দুই পর্বের এই গণভোটের পরবর্তী পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় মুসলিম নেতা আঞ্জারিহ মাস্তুরা মাতালাম বলেন, ‘বাঙসামোরো মৌলিক আইন আমাদের অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুফল বয়ে আনবে।’

‘আইনটিকে আমরা এই অঞ্চলের ভবিষ্যত এবং আমাদের সন্তানদের ভরসা হিসেবে মনে করি। আমি বিশ্বাস করি, আইনটি মোরোদের জন্য উন্নয়ন, প্রগতি ও শান্তি নিয়ে আসবে।’

প্রসঙ্গত, মোরোদের স্বায়ত্তশাসনের ব্যাপারে দীর্ঘ বছরের প্রচেষ্টা থাকলেও সম্প্রতি দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন ফিলিপাইনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুর্তেতে। কারণ তিনি ওই অঞ্চলে ২২ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

আইনটিকে সমর্থন দেওয়া সংক্রান্ত এক সমাবেশে শুক্রবার কোটাবাটো শহরে দুর্তেতে বক্তব্য দেন। সেখানে সোমবারের গণভোটে আইনটির পক্ষে সমর্থন তথা ভোট দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ১৮৯৮ সালে স্প্যানিশরা যখন ফিলিপাইনকে আমেরিকানদের হাতে তুলে দেয় তখন থেকেই ওই অঞ্চলে মুসলমানদের স্বাধীনতা চলে যায়। এর আগে পুরো ষোড়শ শতক স্প্যানিশরা ফিলিপাইন শাসন করে।

এরপর ১৯৪৬ সালে আমেরিকানরা ফিলিপাইনের শাসনভার খ্রিস্টানদের হাতে তুলে দেয়। তারপর ম্যানিলা সরকারের খ্রিস্টান স্যাটেলমেন্ট নীতির কারণে এখনও বঞ্চিতই হচ্ছেন বাঙসামোরো জনগণ।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ার সমান আয়তন বিশিষ্ট মিন্দানাও ফিলিপাইনের সবচেয়ে অনুন্নত এলাকা। কিন্তু সেখানে নিকেলের খনি পাওয়া গেছে এবং বড় বড় ফলের বাগান রয়েছে। এ ছাড়া সরকার সেখানে পাম অয়েলের ফার্ম করতে চাইছে। যুগের পর যুগ ধরে চলা যুদ্ধ, আইন শূন্যতা ও সংঘাতের কারণে বিনিয়োগকারীরা সেখানে যেতে আগ্রহী ছিল না।

উল্লিখিত বিল পাস হওয়ায় স্থানীয় শাসকবর্গ, আইন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা থাকবে। তবে প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বৈদেশিক নীতি ও অর্থ সংক্রান্ত নীতি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।

সেইসঙ্গে আইনটি কার্যকর হলে ওই অঞ্চলের মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্ট (এমআইএলএফ) ও অন্যান্য বিদ্রোহী তথা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলত সংগঠনগুলো তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।