ডিপিডিসি’র চাকরি, কিছু সম্পদ তো থাকবেই: রমিজ

তবে সম্পদের এই ‘কুমির’ ঢাকা পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী মো. রমিজ উদ্দিন সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাকে হ্যারাসমেন্ট করার জন্য, এটা ভুয়া। চাকরি করি কিছু সম্পত্তি তো আছে, তবে ইনকাম ট্যাক্সে ফাইলে যা আছে। তার বাইরে আমার কিছু নেই।’

বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পত্তির সন্ধান পেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে। এরই প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে রমিজ উদ্দিনকে তার সম্পদের বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তে গিয়ে তারা প্রাথমিকভাবে অবৈধ সম্পদের পাহাড় পেয়েছেন।

জানা গেছে, রমিজ উদ্দিনের নামে রাজধানীর উত্তরা ৫নং সেক্টরের ২নং রোডে সাততলা, মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা, মিরপুরের ২৮ মল্লিকা মিল্কভিটা রোডে চারতলা ফ্ল্যাট, রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮নং রোডের ২০২ ব্লক-ডি তে ৪.৫ কাঠা জমির উপর ৫টি দোকান ও টিনসেড বাড়ি, পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ এলাকায় ৯.৪৮ শতাংশ জমি ওপর বাড়ির তথ্য পেয়েছে।

টঙ্গী ও গাজীপুরে নামে-বেনামে ৩০ একর জমি রয়েছে। কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতেও রয়েছে একরে একরে জমি। জেলার মুরাদনগরে স্ত্রী সালমা পারভীনের নামে রয়েছে ৫০ বিঘা জমি।

পুঁজিবাজারে এই দম্পতির নামে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ ছাড়াও নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ রয়েছে।

এ ছাড়া রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে গাজীপুরে জমি বিক্রি করে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার এবং পরে বাংলাদেশে ফেরত আনার অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক।

তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে পরিবর্তন ডটকমের সাথে মুঠোফেনে বিস্তারিত কথা হয়। অবৈধ সম্পদের কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার যা কিছু সম্পদ আছে। সবকিছু ইনকাম ট্যাক্সে ফাইলে আছে। এর বাইরে কিছু নেই।’

ঢাকায় ৫টি বাড়ির বিষয়ে জানতে বলেন, আমার ঢাকাতে ৫টি বাড়ি নেই। দুটি বাড়ি আছে- একটা মিরপুরের পূর্ব মনিপুর ১৩০৭/ডি ছয়তলা ও উত্তরা ৫নং সেক্টরের ২নং রোডে সাততলা বাড়ি যেখানে আমি থাকি।

মিরপুরের ২৮ মল্লিকা মিল্কভিটা রোডে চারতলা ফ্ল্যাট সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, না। সেখানে কোনো বাড়ি নেই আমার।

তার কাছে রামপুরা মহানগর হাউজিংয়ে ৮নং রোডের ২০২ ব্লক-ডি তে ৪.৫ কাঠা জমির উপর ৫টি দোকান ও টিনসেড বাড়ি সম্পর্কে জনতে চাইলে বলেন, এসব কিছু নেই। যা আছে আমার ইনকাম ট্যাক্সের মধ্যেই রয়েছে।

আর পূর্ব রামপুরা ১৭৭/৫/১ এলাকায় ৯.৪৮ শতাংশ জমি ওপর বাড়ি সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, এটা ডেভেলপার কোম্পানিকে দেওয়া আছে, আমার স্ত্রীর নামে।

অন্যদিকে টঙ্গী-গাজীপুর জমির কথা বললে তিনি বলেন, এটা ভুয়া।

তার স্ত্রীর নামে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে বলেন। হ্যাঁ শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ আছে। সেটা আমার ইনকাম ট্যাক্স ফাইলে আছে।

আর জন্মভূমি কুমিল্লাতে সম্পদের কথা জানতে চাইলে বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি কিছু আছে আমার।

তিনি বলেন, কিছু সম্পদ তো থাকবে, মানুষ কি সম্পদ ছাড়া থাকবে।

তার বেতন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমার আড়াই লাখ টাকা বেতন।

তার স্ত্রীর পেশা সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমার স্ত্রী গৃহিণী প্লাস শেয়ার ব্যবসায়ী।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ৩৭ বছর ধরে ডিপিডিসিতে চাকরী করি। এসময় আরও কিছু (বিদ্যুৎ নিয়ে) কাজ করতে চেয়েছিলাম। সেটা বাধাগ্রস্ত করতে হ্যারাসমেন্ট করা হচ্ছে।

মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নিবেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, দুদক ডাকলে আমার জায়গা সেভাবে তার উত্তর দিবো।

দুদক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে রমিজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ আসে। এরপর অনুন্ধান কর্মকর্তা উপ-সহকারি পরিচালক শহিদুর রহমানের নেতৃত্বে দুদক প্রাথমিকভাবে রমিজের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এসব সম্পদের তথ্য পায়।