তারেক প্রয়োজনে বিএনপি ছাড়বে, তবু জামায়াতকে নয়

বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বলেছেন যে, ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত নেই। এই ফ্রন্টের মুল শরিক বিএনপির সাথে ঐক্য হয়েছিল একটি শর্তে। শর্তটি ছিল ঐক্যফ্রন্টে জামায়াত ইসলাম থাকবে না।

তবে নির্বাচন চলাকালীন জামায়াত ইস্যুটি ঐক্যফ্রন্টের ইমেজ অ্যাম্বাসেডর ড. কামাল কিংবা কাদের সিদ্দিকীরা কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। উনাদেরকে না জানিয়ে জামায়াত ইস্যুতে বিএনপি ড. কামালদেরকে ব্ল্যাক-মেইল করেছে এমনটি কোনওভাবেই মনে হয় না।

কৌশল বলছি এই জন্যে যে ড. কামালরা ভেবেছিলেন যদি জামায়াতকে সাথে রেখে ভোটের রাজনীতিতে সুবিধা পাওয়া যায় তাতে খারাপ কি! নির্বাচনের পরে ঐক্যফ্রন্টের রুমের কোনও এক কোনায় কার্পেটের নিচে জামায়াতকে লুকিয়ে রাখা যাবে। যদি চাপাচাপির পরিমাণ বেড়ে যায়, জামায়াতের নতুন নেতৃত্বকে কিভাবে একাত্তরের দায় থেকে বাঁচানো যায় সেটি তখন ভাবা যাবে। ফলে জামায়াতকে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনাটি ড. কামালেরা জানতেন না সেটি একেবারেই সত্য মনে হয় না।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে ঐক্যফ্রন্টটি গঠিত হয়েছে অসহায় ও নেতৃত্বহীন বিএনপির বিপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার জন্য ড. কামালের কাছে গিয়েছিলেন, ড. কামাল কিন্তু বিএনপির কাছে আসেনি। অধিকন্তু, কথিত আপসহীনার দলের শেষমেশ নির্বাচনে আসার লজ্জা ঢাকতে ড. কামালদের দ্বারস্থ হওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না। ফলে ড. কামালদেরকে না জানিয়ে ঐক্যফ্রন্ট্রের সমর্থনে জামায়াত নির্বাচনে বাইশটি আসনে প্রতিযোগিতা করেছে সেটি বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই।

নির্বাচন শেষ। সামনে পাঁচ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে। এটি বেশ লম্বা সময়। অনেক কিছুর পরিবর্তন, বিকাশ ও রূপান্তর ঘটবে। এটি নতুন প্রেক্ষাপট।

এমতাবস্থায় জামায়াতের মতো একটি ঘৃণিত জঙ্গি ডিপোর সাথে থেকে নিজেদের ইমেজকে আর ধ্বংস করতে ড. কামালেরা চাচ্ছেন না। এর ওপর আবার দেশ-বিদেশে জামায়াতের আদর্শিক রাজনীতির, পরিষ্কারভাবে বললে জঙ্গিবাদী রাজনীতির, বাজার খুবই নিম্নমুখী।

জামায়াতকে পাশে রেখে দেশের তরুণ প্রজন্ম কিংবা প্রগতিশীল অংশের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যেভাবে আওয়ামী লীগের পাশে দাঁড়িয়েছে সেখানথেকে তাদের ফিরিয়ে আনা খুবই কঠিন। সবচেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের রাজনীতিতে, বিশেষ করে ক্ষমতার রাজনীতিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের স্থান সরু থেকে সরুতর হয়ে আসছে। সরকারের পাশাপাশি বিরোধীদলেও স্বাধীনতা পক্ষের শক্তি থাকুক সেটি ক্রমশ গণদাবিতে পরিণত হচ্ছে। বিষয়গুলি হয়ত ড. কামালেরা বুঝতে পেরেছেন।

জামায়াত প্রশ্নে বিএনপির সাথে, বিশেষ করে তারেক রহমানের সাথে, ঐক্যফ্রন্টের সাইনবোর্ডওয়ালা ড. কামালদের পার্থক্য এখানেই। জামায়াতের সাথে তারেক রহমানের আর্থিক ও আত্মিক সম্পর্ক থাকলেও ড. কামালদের এখনো সেই সুযোগ হয়নি। ফলে ড. কামালেরা জামায়াত প্রশ্নে বিএনপিকে ছাড় দিবে না বলেই মনে হয়।

তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতি দেশের বাইরের পরাশক্তি দেশগুলির দৃষ্টিভঙ্গিও জামায়াত প্রশ্নে ড. কামালদের চিন্তার পরিবর্তনটি প্রাসঙ্গিক।

জামায়াতকে সাথে রেখে মার্কিনদের পরোক্ষ সমর্থন পাওয়া গেলেও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির কারণে মার্কিনীরা প্রত্যক্ষ সমর্থন করবে না। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নামক নাপিতের বাক্সটি বায়বীয় মানবাধিকার ও সুশাসন নিয়ে চেঁচামেচি করলেও জামায়াত প্রশ্নে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেঁচামেচি কমিয়ে আনবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা পালনকারী সৌদি আরবও জামায়াত প্রশ্নে একই ভূমিকায় থাকার কথা। কারণ জামায়াত জঙ্গি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের ব্রাদার সংগঠন। সৌদি আরব মুসলিম ব্রাদারহুডকে জঙ্গি সংগঠন হিসাবেই স্বীকৃতি দেয়।

জামায়াতকে ভারতও মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো জঙ্গি সংগঠন হিসাবেই জ্ঞান করে। জামায়াত দীর্ঘ চেষ্টা করেও ভারতের নেতৃত্বের কাছে ভিড়তে পারেনি। এমনও শোনা গিয়েছিল যে জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের ভারতীয় ভিসার দরখাস্ত ঢাকাস্থ ভারতের দূতাবাসে কয়েক বছর ধরে পড়ে থাকলেও ভারত তাকে ভিসা দেয়া হয়নি। ঘটনাটি এই জন্যই বলেছি যে জামায়াতের মতো জঙ্গিবান্ধব সংগঠনের প্রতি ভারতের মূল্যায়ন কি তা বোঝানোর জন্য।

উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলি বিবেচনায় নিয়ে ড. কামালেরা জামায়াত থেকে একশ হাত দূরে থাকতে চাচ্ছে।

ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য একই লাইনে বিদ্যমান। ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রায় শুরু থেকেই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনো সম্পর্কই জামায়াতের সাথে রাখতে নারাজ। জেএসডিও একই অবস্থানে। ঐক্যফ্রন্ট রাখতে হলে বিএনপিকে জামায়াত ছাড়তে হবে এমন একটি অবস্থান বিএনপি ছাড়া ঐক্যফ্রন্টের বাকি সদস্যদের রয়েছে।

কেবল ঐক্যফ্রন্টই কি জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে বিএনপিকে চাপ দিচ্ছে? বিএনপির অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে জামায়াতমুক্ত বিএনপি হোক সেই আকাঙ্ক্ষাটি কি একেবারেই নেই? চলুন এই প্রশ্নগুলির বাস্তব উত্তর খুঁজি।

বিএনপি যখন জামায়াতকে সাথে নিয়ে চার দলীয় জোট গঠন করে ঠিক তখন থেকেই দলটির ভিতরে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিটি নড়েচড়ে বসে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলে অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ দেখায়। বিকল্প ধারার প্রধান বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও এলডিপির প্রধান কর্নেল অলি আহমেদ তাদের মধ্যে অন্যতম।

১৯৯১ সালে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে, তখন বদরুদ্দোজা ছিলেন বিএনপির দ্বিতীয় ক্ষমতাধর ব্যক্তি। তখন বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মিলেই জামায়াত ইসলামকে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করার আলোচনা সংসদে হয়েছিল। জামায়াত নিষিদ্ধের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন বদরুদ্দোজা। চারদলীয় জোট সরকার গঠন করার সময় জামায়াত ডাক্তার চৌধুরীর সেই ভূমিকার প্রতিশোধ নিয়েছেন বলেই আমি মনে করি। জামায়াত কৌশলে বদরুদ্দোজাকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।

কর্নেল অলি আহমেদও সেই সময়ে তারেক রহমানের সাথে জামায়াতের গভীর সম্পর্কের সমালোচনায় সরব ছিলেন। ডাক্তার চৌধুরী ও  কর্নেল অলির নেতৃত্বে বিএনপির ভিতরে মুক্তিযোদ্ধাদের অংশটি একটি বড় ধরনের স্নায়ু যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সেই সময়ে বিএনপির মহাসচিব মান্নান ভুঁইয়া নিজের অবস্থান কঠোরভাবে গোপন রাখলেও সামরিক সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রকাশ করেন।

এমনকি বিএনপির মহাসচিব মান্নান ভুঁইয়া মারা যাওয়ার পরেও বিএনপির অভ্যন্তরে জামায়াত প্রভাবিত বিএনপি ও একাত্তর প্রভাবিত বিএনপির স্নায়ু যুদ্ধ লক্ষ করা যায়। মুক্তিযোদ্ধা তরিকুল ইসলাম জামায়াত নেতৃত্বের সাথে খাপ খাইয়ে চলতে অসুবিধা হওয়ায় মাত্র সপ্তাহ দুয়েক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেই ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। অথচ এই তরিকুল ইসলাম ১৯৮০ সালের দিকে নব্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।

২০০১ সাল উত্তর বিএনপির সামগ্রিক রাজনীতি নির্মোহভাবে বিশ্লেষণ করলে, বিশেষ করে দলটির ১৯৯১-১৯৯৬ সালের রাজনীতির সাথে তুলনা করলে জামায়াত রাজনীতির প্রতি বিএনপির ধ্বংসাত্নকভাবে ঝুঁকে পড়ার চিত্রটি স্পষ্টভাবে বুঝা যায়। বিএনপি ও জামায়াত রাজনীতির মধ্যে আদর্শিক পার্থক্য থাকলেও দল দুটির রাজনীতি একই বৃত্তে অবস্থান করে।

জামায়াত যে ক্যান্সারের মতো বিএনপিকে নিরবে স্টেজ থ্রিতে নিয়ে গেল এবং এখনো বিএনপিকে চিকিৎসাবিহীন করে রাখলো এতে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের প্রক্রিয়া দেখলে একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার- দলটি জঙ্গি ডিপো জামায়াতমুক্ত হোক, সেই আকাঙ্ক্ষাটি বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে রয়েছে। আমার এই দাবির স্বপক্ষে তিনটি উদাহরণ দিতে চাই।

উদাহরণ এক: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন যখন বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার জন্য আবারও জোর দাবি জানালেন তখন বিএনপির কোনও দলগত প্রতিক্রিয়া জানা না গেলেও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের প্রতিক্রিয়াটি প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাসী দল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্বার্থে বিএনপি জামায়াত ছাড়বে কি না সেটি দল চিন্তা করবে, আলোচনা করবে। তিনিও ড. কামালের সাথে একমত পোষণ করে বলেন যে নির্বাচনে জামায়াতকে সাথে নেওয়া ঠিক হয়নি।

উদাহরণ দুই: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের ওবায়দুল হক নাসিরের একটি মন্তব্য দেখতে পেলাম। তার কিছু অংশ নিচে দেওয়া হল।

“নিয়মিত দুইবেলা নয়াপল্টনের কবিতা পাঠ বন্ধ করুন। (খুব সম্ভবত আবাসিক নেতা রুহুল কবির রিজভির দিকে আঙ্গুলি নির্দেশ করেছেন)।

গুলশান সিন্ডিকেট থেকে দল মুক্ত করুন। দলের ভিতরে গণতান্ত্রিকভাবে নেতৃত্ব নির্বাচন করুন। ক্ষমতা আর সংলাপ দয়া করে মাথা থেকে বাদ দেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন- ‘সংসদের বাইরেও জনগণের কথা বলার জন্য বিরোধী দল থাকে’, সেভাবেই থাকুন। জামাত -ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে আসুন। হেভি-ওয়েট নামধারী নেতাদের কাছ থেকে, নির্যাতনে পাতলা হয়ে যাওয়া কর্মীদের বাঁচতে দিন।

নির্বাচন সংলাপ পরে পরে পরে পরে।

অন্যথায় ধ্বংস…”

উদাহরণ ৩: আমার পরিচিত একজন কাছের বন্ধু বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত পারিবারিকভাবেই। আজ পর্যন্ত তাকে বলতে শুনলাম না যে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া উচিত। বরং প্রতিবারেই যা বলেন তা হল, জামায়াত-প্রভাবিত বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশটি ধ্বংস হয়ে যাবে। বিএনপির আগে উচিত জামায়াতের নীল বিষের ছোবল থেকে নিজকে রক্ষা করার রাজনীতি শেখা। ক্ষমতায় পরেও যাওয়া যাবে।

এখন প্রশ্ন হলো বিএনপির বর্তমান কর্ণধার ইমেজ বিহীন নেতা তারেক রহমান কি উপরোল্লেখিত বিষয়গুলি সম্পর্কে জানেন না?

উত্তর হলো, তিনি অবশ্যই জানেন।

তাহলে প্রশ্ন থাকে, জঙ্গি ডিপো জামায়াতকে কেন তিনি ছাড়তে পারছেন না?

না ছাড়তে পারার দুটি কারণ রয়েছে।

ধারণা করা হয় যে, জামায়াত ও বিএনপির আদর্শ প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ শতাংশ ওভারল্যাপিং হয়। দল দুটিও ডানপন্থি। ভারত-বিরোধিতা, কথিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ কিংবা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি বিরাগভাজন-পূর্ণ মানসিকতা দল দুটির পুঁজি। সেই ধারণা থেকে বলা যায়, বিএনপির বিশ থেকে পঁচিশ শতাংশ নেতা কর্মী জামায়াত বান্ধব।

উদাহরণ দিলেই এই দাবিটির সত্যতা দেখতে পাবেন।

জামায়াত প্রতিনিধি হিসাবে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিল। এমনকি ড. খন্দকার মোশারফ হোসেনও তাই। ফলে জামায়াতকে সরিয়ে দিয়ে বিএনপির মধ্যে বিশ থেকে পঁচিশ শতাংশ জামায়াতপন্থিদের প্রতি কোনও ঋণাত্মক বার্তা দিতে তারেক রহমান প্রস্তুত নয়।

দ্বিতীয়ত, জামায়াত বিএনপির সাথে জোট করার পর থেকেই জামায়াত কৌশলে ক্রিসপার প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারেক রহমানের রাজনৈতিক ডিএনএ এর রূপান্তর ঘটিয়েছে। তারেক রহমানকে আপনি বোঝালেন  জামায়াত বিএনপির জন্য ক্ষতিকর। ডিএনএ পরিবর্তনের প্রভাবে তিনি ‘ক্ষতিকর’ শব্দটির জায়গায় ‘অপরিহার্য’ শুনতে পাবেন।

তারেক রহমান পুরোপুরি জামায়াত শিবিরের কব্জায়। লন্ডনে রাজকীয় যাপিত জীবনের পুরো খরচাদি যে জামায়াত ফান্ড থেকে আসে তা সহজেই অনুমেয়। আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে, জামায়াত-শিবিরের উপকার নিয়ে কোনও ছেলে কিংবা মেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পরে সে জামায়াত শিবিরের রাজনীতির করেনি তেমন একটি উদাহরণ আমাদের সামনে নেই।

ফলে বিএনপির একটি তৃণমূল কর্মী জামায়াতকে ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করার জন্য বুকফাটা চিৎকার ক্রিসপার প্রযুক্তির দ্বারা রূপান্তরিত তারেক রহমানের কাছে চেঁচামেচি মনে হবে। বলা যায়, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান কিংবা ওবায়দুল হক নাসিরের অনুধাবনগুলি তারেক রহমানের কাছে একেবারেই মূল্যহীন।

তাহলে প্রশ্ন হলো তারেক রহমান কি জামায়াতকে ছাড়বে না?

জঙ্গি ডিপো জামায়াতকে যেহেতু বিএনপি গত দুই দশকে ছাড়তে পারেনি, আগামীতে দুই দশকেও সেটির সম্ভাবনা কম। তারেক রহমানের জামায়াত নির্ভরশীলতা, বিশেষ করে জামায়াতের প্রতি তারেক রহমানের অর্থনৈতিক নির্ভরতা, গত দুই দশকে আরও বেড়েছে।

অধিকন্তু, নির্বাচনের পরে সরকার তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। সরকারের এমন তৎপরতা থেকে বাঁচতে তারেক রহমানকে যুক্তরাজ্যের জামায়াত প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের কাছেই দ্বারস্থ থাকতে হবে।

এমতাবস্থায় তারেক রহমানের পক্ষে জামায়াতকে ত্যাগ করা সম্ভব নয়। বিএনপির যে অংশটি এখনো জামায়াতমুক্ত বিএনপির চিন্তা করেন তাদের উচিত ফ্যান্টাসি বাদ দিয়ে বাস্তবতায় ফিরে আসা।

তারেক রহমান যদি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ার কথা চিন্তাও করে এবং জামায়াত-শিবির তা বুঝতে পারে, তারেক রহমানের জীবন বড় ধরনের সঙ্কটে পড়বে।

প্রয়োজনে তারেক রহমান বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাবেন, তবু জামায়াতকে ছাড়বেন না!