যপ্রিবিতে ১০ দিন অচলাবস্থায় সেশনজটের আশংকা

নিজস্ব প্রতিবেদক>
শিক্ষক-ছাত্রলীগ নেতাদের দ্বন্দ্বে অচল হয়ে পড়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। টানা ১০দিন সব ধরনের ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে রেখেছেন শিক্ষকরা। এতে সেশনজটে পড়তে পারেন শিক্ষার্থীরা। কেননা একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এখানে ক্লাস নেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাদের আন্দোলন স্থগিত করলেও শিক্ষকরা হামলার সাথে জড়িত শিক্ষার্থীদের বহিস্কারের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন।
গতকাল সোমবার শিক্ষক সমিতি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আগামী শনিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে। এসময়ের মধ্যে শিক্ষকদের মানববন্ধন কর্মসূচিতে হামলা ও ভাংচুরের সাথে জড়িত শিক্ষার্থীদের বহিস্কার না করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. নাজমুল হাসান জানান, গতকাল আমরা মৌণ মিছিল এবং সভা করেছি। সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল তা আগামী শনিবার পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এসময়ের মধ্যে প্রশাসন যদি শিক্ষকদের উপর হামলার সাথে জড়িতদের বহিস্কার না করে তাহলে কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে। একই সাথে আগামী ২৪ জানুয়ারি যশোরের সংসদ সদস্যদের সাথে সভা করা হবে। এসময় আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত ৩ সদস্যর কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছেন। রোববার সারাদিন কমিটি তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন। কমিটির প্রধান করা হয়েছে যবিপ্রবি’র রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.শরীফ এনামুল কবীরকে। সদস্য হিসেবে আছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন ও জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি।
যবিপ্রবি’র উপাচার্য অধ্যাপক ড.আনোয়ার হোসেন জানান, প্রকৃত ঘটনা তদন্তে আমরা তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। কমিটি ইতিমধ্যে রোববার থেকে কাজ শুরু করেছেন। যতদ্রুত সম্ভব তাদেরকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট পাবার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমি আশা করেছিলাম শিক্ষরা কমিটি গঠনের পর তাদের আন্দোলন থেকে সরে এসে ক্লাসে ফিরে যাবেন। আমরা সেই আহ্বানও জানিয়েছিলাম। শিক্ষকদের প্রধান কাজ হলো শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো। সেটি তারা না করে আন্দোলন করছে, এটি দুঃখজনক। আমি আবারও শিক্ষকদের আহবান জানাচ্ছি তারা যেন তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেয়া পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরেন। এবং ক্লাসে ফিরে যান। সেশনজট প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, সেশনজটতো হবেই, তবে শিক্ষকরা যদি অতিরিক্ত ক্লাস নেন, তাহলে সেশনজট এড়ানো সম্ভব হবে।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল গত ১২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইকবাল কবির জাহিদকে হুমকি দেন। ওই সময়ে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বলা হয় ঠিকাদারি কাজের মালামাল নি¤œমানের দেয়ার প্রতিবাদ করায় শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ইকবাল কবির জাহিদকে হুমকি দেয়া হয়েছে। ওই সময় থেকে যবিপ্রবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা নেয়া থেকে বিরত থাকে শিক্ষক পরিষদ। অপরদিকে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন শিক্ষকদের একটি অংশ নৌকা প্রতীক পুড়িয়ে ফেলেছেন। যেকারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্দোলন করেন। একই কারণে আনোয়ার হোসেন বিপুল বিশ্ববিদ্যলয়ের উপাচার্য ড.আনোয়ার হোসেন, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি জাহিদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে দু’টি মানহানি মামলা করেছেন। যশোর চিফ জুডিশিয়াল আমলি আদালতের বিচারক মামলা দু’টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন যশোর কোতয়ালি থানার ওসিকে।