সাগরদাঁড়ীতে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা আজ থেকে

রিমন খাঁন ও সিরাজুল ইসলাম>
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৯৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আজ (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী মধুমেলা । ইতোমধ্যে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই মেলা উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। মেলাকে ঘিরে এখন সাজ সাজ রব গোটা সাগরদাঁড়ি জুড়ে। বিকেলে মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউট মাঠে এই মেলার উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য । সপ্তাহব্যাপী মেলামঞ্চে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বিষয় ভিত্তিক আলোচনাসহ থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এর মধ্যে মঞ্চস্থ হবে উন্মক্ত যাত্রাপালা, থাকবে ঠাকুরগাও এর শিল্পীদের পরিবেশনায় ভাওয়াইয়া, চাপাইনবাবগঞ্জের শিল্পীদের পবিবেশনায় গম্ভিরা,এবং কুষ্টিয়ার শিল্পীদের পরিবেশনায় লালনগীতি। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা পরিবেশন করবে সঙ্গীত,আবৃত্তি,নৃত্য ও নাটক। মেলায় থাকবে সার্কাস, যাদু ও মৃত্যুকুপ। বিগত দিনের মতো মেলায় এবার কোন ইজারাদার নয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ২শ স্টল করে দেয় হয়েছে। স্টল মালিকরা শুধু মাত্র ভাড়াদিয়ে স্টল নিতে পারছেন।
কেশবপুর শহর থেকে ১৩ কিলো মিটার দক্ষিণে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জমিদার রাজনারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবীর সংসারে ১৮২৪ সালে ২৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন অমিত্রাক্ষর ছন্দের জনক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত। নিজ গ্রামে মধু কবির শৈশব কাটে। উচ্চ শিক্ষা লাভের জন্য তিনি ১৮৩০ সালে সাগরদাঁড়ি ছেড়ে কলকাতার খিদিরপুরে চলে যান মাইকেল মধুসূদন দত্ত। লেখাপড়া করাকালীন ফ্রান্সের সুদূর ভার্সাই নগরীতে বসে তিনি রচনা করেন চতুষ্পদী কবিতা সনেট। লেখাপড়ার টানে তিনি বিদেশে থাকলেও তার নিজ গ্রাম জন্মভূমি সাগরদাঁড়ি আর পাশ দিয়ে বহমান কপোতাক্ষ নদ তার সাহিত্যকর্মে ছিল চির জাগরুক। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার এক হাসপাতালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রতিবছর ২৫ জানুয়ারী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সপ্তাহব্যাপী মধু মেলার আয়োজন করে থাকে। এবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে এ মেলা এগিয়ে নিয়ে ২২ জানুয়ারি থেকে শুরুহচ্ছে, চলবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বলে জানায় মেলা উদযাপন কমিটি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০১ সালে ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হয় মধুপল্লীর নির্মাণ কাজ। সাগরদাঁড়ি মধুসূদন মিউজিয়াম, পিকনিক কর্নার, মধু মঞ্চ, সুদৃশ্য গেট নির্মিত হয়। এছাড়া রয়েছে পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর শীতের শুরু থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা ভ্রমণ ও পিকনিক পার্টিও আগমন ঘটে থাকে সাগরদাঁড়িতে। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ মেলায় রূপ নেয় মধু মেলা।
কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহিন জানান মেলার মাঠ নিরাপত্তা চাদরে মোড়া হবে। তিনি জানান মেলার অভ্যন্তরে ও বাইরে এবং যাতায়াত পথে পোশাধারী এবং সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া মেলার বিভিন্ন স্থানে ৩৬ টি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারীতে রাখা হবে।
মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানূর রহমান জানিয়েছেন, মেলায় যে কোন ধরনের অশ্লিলতাকে জিরোটলারেন্স দেখানো হয়েছে । তিনি বলেন, মেলায় মধু ভক্তদের নিরাপত্তা বিধানে নেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা।