যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে কম্বল নেই! শীতে কাঁপছে রোগীরা

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের শীত নিবারণের জন্য সরকারিভাবে সরবরাহকৃত কম্বল পাচ্ছে না রোগীরা। সরবরাহ নেই এ অজুহাতে রোগীদের কম্বল দেয়া হচ্ছে না বলে রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন। তারা সেবিকাদের কাছে কম্বল চাইলেই নেই বলে জানানো হচ্ছে। কম্বল না পাওয়ায় কারণে অনেক রোগী শীতে কাঁপছে। তবে স্টোরকিপার বলছেন, সরকারিভাবে ইদানিং কম্বল সরবরাহ করা হচ্ছেনা। আবাসিক মেডিকেল অফিসার জানান, স্টোরে পর্যাপ্ত কম্বল রয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টা। মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের মেঝেতে শুয়ে কাঁপছেন ফাতেমা খাতুন (৬৫)। কথা প্রসঙ্গে তার স্বজনরা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তড়িঘড়ি করে হাসপাতালে আনতে গিয়ে শীতবস্ত্র নিতে ভুলে গেছেন। লেপ-কাথা আনতে বাসায় খবর দেয়া হয়েছে। মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে কোন শয্যা না থাকায় অনেক রোগী মেঝেতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে রোগীদের শীতের অনুভবটাও যেন বেশি। মহিলা মেডিসিন ছাড়াও অন্য ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন একাধিক রোগীর স্বজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, শীতের সময়ও চিকিৎসাধীন রোগীদের কম্বল দেয়া হয়নি। যে কারণে অনেক রোগীর শীতে কষ্ট করতে হচ্ছে। আসাদুল ইসলাম নামে এক স্বজন জানান, তার রোগীর জন্য সেবিকার কাছে একটি কম্বল ও বালিশ চাইলেও দেয়া হয়নি। তাকে বলা হয়েছে হাসপাতালে কম্বল বালিশ কিছুই নেই। বাড়ি থেকে আনতে হবে। আরেক রোগীর স্বজন পারভীনা খাতুন বলেন, কম্বল চাওয়ায় তার সাথে সেবিকারা দুর্ব্যবহার করেছেন। মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের এক সেবিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রোগীর কম্বল দিলে অধিকাংশ আর ফেরত পাওয়া যায়না। রোগীর অন্যত্র রেফার্ড বা ছুটির পর তারা কম্বল সাথে করে নিয়ে যান। এজন্য হিসাব করেই তারা রোগীদের কম্বল দেন। হাসপাতালের স্টোর কিপার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সরকারি কোন কম্বল হাসপাতালে সরবরাহ নেই। কিছু অনুদানের কম্বল আছে। তত্ত্বাবধায়ক স্যার ছুটিতে আছেন। তিনি কর্মস্থলে ফিরলেই কম্বলগুলো রোগীদের মাঝে বিতরণ করা হবে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ওয়াহিদুজ্জামান ডিটু জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের শীত নিবারণের জন্য সরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে কম্বল সরবরাহ রয়েছে। আবার অনুদানের কম্বলও স্টোরে রয়েছে। রোগীদের কম্বল না দেয়ার বিষয়টি অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখবেন।