বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে : মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক:মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম. মোজাম্মেল হক বলেছেন, ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এদেশের মানুষ একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে লাল কার্ড দেখিয়ে রাজনীতির মাঠ থেকে বিতাড়িত করেছে। তারা যেন আবার মাঠে এসে লাল-সবুজ পতাকাকে অপমান করতে না পারে এজন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। বুধবার যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময়ের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি যশোরের শার্শা, চৌগাছা, কেশবপুর এবং বাঘারপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন।
মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে। এবার প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা রয়েছে দেশের ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে সব নাগরিক এবং এক বছরের নিচের শিশুরা বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার। আর আগামী নির্বাচনে জয়ী হলে দেশের সবার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন শুধুমাত্র একটি পতাকা, একটি ভূখ- বা একটি জাতীয় সংগীত নয়। অর্থনৈতিক মুক্তি না হলে শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্থহীন। এজন্য বঙ্গবন্ধুর রক্ত যার শরীরে সেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তার নেতৃত্বেই আমরা দেশকে বঙ্গবন্ধুর সত্যিকারের সোনার বাংলায় রুপান্তর করবো।’মন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য যারা জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতা এনেছেন,সেই মুক্তিযোদ্ধাদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত বাসস্থান থাকবে না, এটা হতে পারে না । তাই বর্তমান সরকার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে কিছু মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এবার ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণ করা হবে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। দুই তিন মাসের মধ্যে এই কাজ শুরু হবে। মন্ত্রী বলেন, এই সুবিধা সব মুক্তিযোদ্ধা পাবেন না। শুধুমাত্র অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা বাড়ি পাবেন। সেই হিসেবে মোট মুক্তিযোদ্ধার ১০ শতাংশ এই সুবিধার আওতায় আসবেন। মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সারাদেশের যেসব স্থানে পাকবাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে, সেখানে ‘যুদ্ধক্ষেত্র স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হবে। সেই পরিকল্পনা নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করছে। উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালে সরকারে এসে সারাদেশে ৪৪ হাজারেরও বেশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি করে। ওই গেজেট বাতিলের চেষ্টা চলছে। আমরা আশা করছি আইন অনুযায়ী দ্রুততার সাথে ওই সব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে বাদ দেয়া সম্ভব হবে। জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা)আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২ ( চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) ডা. নাসির উদ্দীন, যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন মুক্তিযুদ্ধকালীন বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর প্রধান আলী হোসেন মনি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার রাজেক আহমেদ, মুযাহারুল ইসলাম মন্টু, সদর উপজেলা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী স্বপন প্রমুখ।