যশোরে সন্ত্রাসীর সহযোগী মনে করে গণপিটুনি, মোটরসাইকেল ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর শহরের খড়কী এলাকার সন্ত্রাসী বর্ষণের সহযোগী মনে করে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন ইয়াছিন নামে নিরীহ এক যুবক। তিনি ষষ্টিতলা পূর্বপাড়ার জাকির হোসেন ওরফে জাকারিয়ার ছেলে। বাকি একজন পুকুরে লাফ দিয়ে গণপিটুনির হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। পুলিশ ইয়াছিনকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে যশোর এমএম কলেজের মাঠে।
কোতয়ালি থানার এএসআই আল মিরাজ জানিয়েছেন, ইয়াছিন তার বন্ধু ওয়ালিউরসহ ৫জন দুইটি মোটরসাইকেলে করে এমএম কলেজের মাঠে ঘুরতে যান। সে সময় ওই এলাকার লোকজন এবং কলেজের আশেপাশের ছাত্ররা মনে করে তারা সন্ত্রাসী বর্ষণের সহযোগী। সে হিসাবে কয়েকশ’ লোকজন তাদের ঘিরে ধরে। এই ভয়ে দুইটি মোটরসাইকেলে করে ৫জন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তিনজনকে বহন করা একটি মোটসাইকেল দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেও ইয়াছিন এবং ওয়ালিউর পালাতে পারেননি। তাদের ধরে ফেলে লোকজন। কিছু বোঝার আগেই মারপিটের শিকার হন ইয়াছিন। ভয়ে সুযোগ বুঝে ওয়ালিউর এমএম কলেজের পুুকুরের পানিতে লাফ দেন। এবং পুকুরের মধ্যে অবস্থান করতে থাকেন। লোকজন পুকুরে না নামায় তাকে ধরতে পারেনি।
এদিকে ব্যাপক মারপিটের শিকার হন ইয়াছিন। তার মাথায় এবং পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। সংবাদ পেয়ে কোতয়ালি থানার পুলিশ সেখানে গিয়ে ইয়াছিনকে উদ্ধার করে। আর পুলিশ দেখে ওয়ালিউর পুকুর থেকে উঠে আসেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইয়াছিনকে হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ।
এএসআই আল মিরাজ জানিয়েছেন, ঘটনাস্থালে গিয়ে সকলের সাথে কথা বলে জানতে পারেন ইয়াছিন ও ওয়ালিউরকে ভুল করে মারধর করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাদেরকে বর্ষণের সহযোগী হিসাবে মনে করেছিল। তাদের বহন করা একটি পালসার ব্রান্ডের মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ সেটি উদ্ধার করে কোতয়ালি থানায় নিয়ে যায়।
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছেন, বর্ষণ খড়কী এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে। ওই এলাকার মানুষের কাছে সে সন্ত্রাসী হিসাবে বিবেচিত। তার কারণে অতিষ্ঠ ওই এলাকার মেসে এবং ছাত্রাবাসে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা। সাধারণ মানুষের কাছেও সে চাঁদাবাজি করে থাকে। যাকে তাকে মারপিট, হুমকি, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত। ওই এলাকার কয়েক চিহ্নিত অপরাধীকে সাথে নিয়ে সে পুরো এলাকাজুড়ে নানা অপকর্ম করে বেড়াই। ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি রানা নামে এক যুবককে হত্যা করে কয়েক যুবক। ওই মামলার আসামি বর্ষণ। এছাড়া মাস ছয়েক আগে স্টেডিয়াম পাড়ার এক যুবককে মারপিটে জখম করেছিল বর্ষণ ও তার সহযোগিরা। ওই যুবক এখন পঙ্গু। এই ধরনের নানা অপকর্মের কারণে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। তাকে এবং তার সহযোগিদের ধরতে মরিয়া হয়ে ওঠে এলাকার লোকজন। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে ইয়াছিন, ওয়ালিউরসহ ৫জন মোটরসাইকেল নিয়ে এমএম কলেজের মাঠে যান ঘুরতে। এলাকার লোকজন তাদের বর্ষণের সহযোগী অন্তর ও মামুন মনে করে। এই কারণে তারা গণপিটুনির শিকার হন। ওই ঘটনার পর পুলিশও বর্ষণের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে বলে জানাগেছে।
এই বিষয়ে কোতয়ালি থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) সামসুদ্দোহা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে ভুল করে দুই যুবক গণপিটুনির শিকার হয়েছে বলে শুনেছি। কারা তাদের পিটুনি দিলো বা কি কারণে দিলো তা অনুসন্ধান করা হচ্ছে।