যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্তকে বিষক্রিয়ার চিকিৎসা!

বিল্লাল হোসেন>
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলেও বিষক্রিয়ার চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম যশোর খোলাডাঙ্গা এলাকার হাজী মফিজ উল্লাহর ছেলে। ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর ঘটনায় তার জামাই মিনারুল ইসলাম বৃহস্পতিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্র লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খোলাডাঙ্গা হঠাৎ পাড়ার ইনামুল হোসেন জানান, জাহাঙ্গীর আলম একই এলাকার শামসুর রহমানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। ৩০ জানুয়ারি বুধবার অসুস্থ হয়ে ঘরে চিৎকার করছিলেন। তার মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হচ্ছিলো। তাকে উদ্ধার করে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়। এসময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার কল্লোল কুমার সাহা রোগীর সমস্যার কথা জানতে চান। ইনামুল হোসেন আরো বলেন তিনি ডাক্তারকে জানান, জাহাঙ্গীর আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তখন ডাক্তার রোগীর চোখে টর্চ লাইট মেরে দেখে বলতে থাকেন চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে রোগী নেশা করার কারণে অসুস্থ হয়েছেন। পরে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হিসেবে জাহাঙ্গীরকে ভর্তি করে চিকিৎসার জন্য মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন ডাক্তার কল্লোল কুমার সাহা। সেই অনুযায়ী চলে জাহাঙ্গীর আলমের চিকিৎসা। একপর্যায়ে রাত ২ টার দিকে মারা যান তিনি। ইন্টার্ন চিকিৎসক মাসুদ রোগী জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু নিশ্চিত করেন। রাতেই মৃতদেহ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। মর্গে দায়িত্বরত যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই শাহজুুল ইসলাম জানান, জাহাঙ্গীর আলম অজানা বিষক্রিয়ায় মারা গেছেন বলে হাসপাতাল থেকে পুলিশকে তথ্য দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার দুুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলে জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মৃত ব্যক্তির জামাই মিনারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তির সময় ব্লাড প্রেসার ছিলো ২২০ এর উপরে। হৃদরোগের পরিবর্তে বিষক্রিয়া আক্রান্তের চিকিৎসা প্রদান করায় রোগী মারা গেছেন। ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তিনি হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এদিন দুপুর পর্যন্ত রোগীর ভর্তি ডাক্তার কল্লোল কুমার সাহাকে কর্মস্থলে দেখা মেলেনি। তার মুঠোফোনে কল করলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজ নিয়েছেন। ওই রোগীকে যখন ভর্তি করা হয় তখন সাথে আপনজন কেউ ছিলেন না। মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার মনে করেছিলেন রোগী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর লিখিত অভিযোগ এখনো হাতে পায়নি। অভিযোগ পেলে কমিটি গঠন করে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো ।