যবিপ্রবি’র আজ অনুষ্ঠেয় রিজেন্ড বোর্ডের সভা স্থগিত,তদন্তের সময় বৃদ্ধি

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(যবিপ্রবি)’র আজ রোববার অনুষ্ঠেয় রিজেন্ট বোর্ডের সভা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। অপরদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রেষারেষিতে সৃষ্ট অচলাবস্থায় গঠিত তদন্ত কমিটি আরও ১৫ দিনের সময় চেয়েছে।
যবিপ্রবি’র রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আহসান হাবীব জানান, কমিটির প্রধান রিজেন্ড বোর্ডের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.শরীফ এনামুল কবীরের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৫দিনের সময় বাড়ানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আমরা এসময় বাড়িয়েছি। এছাড়া রিজেন্ট বোর্ডের রোবারের সভা স্থগিত করে আগামী ১৯ ফেব্র“য়ারি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে শিক্ষকদের দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি এক ঘণ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড.নাজমুল হাসান।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সময় বৃদ্ধির বিষয়টি আমরা জানি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এটা করা হয়েছে। তবে কমিটির রিপোর্ট দেয়া পর্যন্ত আমরা প্রতিদিন এক ঘণ্টার কর্মবিরতি ও ক্লাসে কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখব।
গত ৮ জানুয়ারি র‌্যাগিং বিরোধী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের শেখ হাসিনা হলের সাধারণ সম্পাদক হুমায়রা আজমির এরিনের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড.ইকবাল কবির জাহিদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়কে কেন্দ্র করে কতিপয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে রেষারেষির সূত্রপাত। এ ঘটনা নিয়ে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল শিক্ষক ইকবাল কবির জাহিদকে ওই দিন মোবাইল ফোনে দেখে নেয়ার হুমকি দেন এবং অশোভন আচরণ করেন। আনোয়ার হোসেন বিপুলের ‘হুমকি’র প্রতিবাদে ১২ জানুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা। টানা ১৪দিন বিশ্ববিদ্যালয় অচল হয়ে পড়ে। সব ধরণের ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচী পালন করেন শিক্ষকরা। ১৪ জানুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে পাঁচশ’ কোটি ও দশ কোটি টাকার দুইটি মানহানির মামলা করেন যশোর আদালতে। পাঁচশ’ কোটি টাকার মানহানি মামলায় তিনি ভিসি ড.আনোয়ার হোসেন ও শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. ইকবাল কবির জাহিদকে আসামি করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তিন সদস্যর একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটিকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কমিটি এসময়ে রিপোর্ট দিতে না পেরে আরও ১৫দিনের সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছে।
অচলাবস্থা নিরসনে গত ২৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্থানীয় সাংসদ ও সুধিজনের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড.আনোয়ার হোসেন একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এতে বলা হয়, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য করার জন্য যশোর শহর থেকে একটি গোষ্ঠী বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলছে। ওই সভায় যতদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে, ততদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সব ধরণের সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।