ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস : রিটের ড্রাফট ঠিক করার নির্দেশ

 

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : অফিস চলাকালীন সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটের ওপর শুনানি ‘নট টুডে’ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে রিটের ড্রাফট ঠিক করে আনতে বলেছেন আদালত।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে রিটের ওপর শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। শুনানির সময় আদালত রিটকারী আইনজীবীকে রিটের কিছু বিষয় সংশোধন করে আনার জন্য বলেছেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন আব্দুস সাত্তার পালোয়ান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেশান ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ডাক্তারদের বিষয়ে করা রিটের ওপর আজ শুনানি করতে গেলে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ ডাক্তারদের কাজে ফাঁকি দেয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলে ‘নট টুডে’ আদেশ দিয়েছেন। শুনানিতে আদালত বলেন, সরকারি ডাক্তাররা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করলে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে তাদের কাজে ফাঁকি দেয়ার উদাহরণ তুলে ধরুন। স্বাস্থ্য মানুষের একটি মৌলিক অধিকার। মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে সংবিধানের কোন ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক সেটাও বলতে পারেন। আপনার রিটের ড্রাফট সঠিক করে আনুন।

বিষয়টি শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার তালিকায় থাকতে পারে। বুধবার এই রিটের ওপর শুনানি না হলে পরবর্তীতে আগামী (১১ ফেব্রুয়ারি) সোমবার শুনানি হতে পারে বলে জানান আইনজীবী মাহমুদ বাশার।

এর আগে সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ আইনজীবী। তারা হলেন- আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান, সালাউদ্দিন রিগান, সুজাত মিয়া, মো. আমিনুল হক এবং মো. কাওছার উদ্দিন মণ্ডল।

রিটের বিষয়ে আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান জাগো নিউজকে বলেন, রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশেনের (বিএমএ) সভাপতিকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিট আবেদনে সরকারি ডাক্তারদের সম্পূর্ণভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও সরকারি হাসপাতালের সকল কার্যক্রম তদারকি করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে রিট আবেদনে অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদেরে দিয়ে সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা গঠনে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের আর্জি জানানো হয়।

এর আগে অফিস চলাকালীন সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধে গত ২৯ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

নোটিশে বলা হয়, সরকারি চিকিৎসকদের থেকে চিকিৎসা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু সম্প্রতি নিজ কর্মস্থল সরকারি হাসপাতাল রেখে অনেক ডাক্তার তার ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা দিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের কর্মঘণ্টা চলাকালে সরকারি ডাক্তারদের এমন অসদাচারণ আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। তাই সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধে সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয় নোটিশে।