ডুমুরিয়ায় প্রায় ৩শ’ একর ইরি বোরো আবাদ অনিশ্চিত

সুব্রত কুমার ফৌজদার, ডুমুরিয়া>
খুলনার ডুমুরিয়ায় ইরি বোরো মৌসুমের শুরুতেই এবার শোলমারী স্লুইচ গেটের নষ্ট কপাট ভেদ করে লবণ পানি প্রবেশের কারণে প্রায় ৩শ’ একর জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিকারের আশায় কৃষকরা গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।
শোলমারী স্লুইচ গেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় দেড় যুগ ধরে লোলিট পাম্পের (এলএলপি) মাধ্যমে শোলমারী নদীর পানি দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা ইরি-বোরো চাষাবাদ করে আসছেন। ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ওই নদী সংলগ্ন বিল টিয়াবুনিয়া, জিলেরডাঙ্গা, পঞ্চু, ভেল্কামারী, জেলেরডাঙ্গা, বড়ডাঙ্গা, গুটুদিয়া, পাটকেলপোতা, বগারখোর, কালিদাশপুর, পাশখালী, বিলপাবলা, খড়িয়াসহ আশপাশ এলাকায় প্রায় ৩শ একর জমিতে এবার ইরি-বোরো আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু শোলমারীর ১০ ভেন্টের স্লুইচ গেটের কপাট নষ্ট হওয়াতে বেপোরোয়াভাবে বিলগুলোর ফসলের মাঠে লবণ পানি ঢুকছে। আর এতে নদীর পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে। ফলে কৃষকদের সোনালি স্বপ্ন এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। দীর্ঘ ১৫দিন জমিতে পানি তুলতে না পারায় অনেক বোরো ধানের ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিবাদল না থাকাতে অনেকের ঘের বেড়ির টপে থাকা পানিও প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
গেটের দায়িত্ব থাকা মমিন মোল্যা বলেন, গেট দিয়ে পানি উঠানো হয়নি। তবে কপাটে রাবার না থাকায় প্রতিদিন কপাট ভেদ করে ভিতরে পানি ঢুকছে। তবে তিনি বিষয়টি তার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি।
এ প্রসঙ্গে কৃষক শান্তুনু মন্ডল বলেন, আমি ৪ বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ করেছি। সব বছরই নদীর পানি দিয়ে চাষাবাদ করে থাকি। এবার ইরি চাষের শুরুতেই নদীর মিষ্টি পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে। ঘেরের টপে যে পানি ছিলো তাও প্রায় শেষ। সময়মত পানি দিতে না পারলে ফসল ফলানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ঋণগ্রস্থ হয়ে জমি করেছি। ফসল না ফললে বড় ধরণের বিপদে পড়বো।
উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (গুটুদিয়া ব্লকের) তুষার কান্তি বিশ্বাস বলেন, ইরি-বোরো ধান চাষাবাদে লবণাক্ত পানি কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত এর সুরহা করার ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম বলেন, ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছি। শুনেছি গেটের কপাটের রাবার নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে ওভারফ্লো হয়ে ভিতরে পানি প্রবেশ করছে। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে।