পিতার ইজিবাইকে শৈশব কাটছে জান্নাতুলের

বিল্লাল হোসেন>
৭ বছরের ফুটফুটে শিশু জান্নাতুল ফেরদাউস মাওয়া। যেন দূরন্ত শৈশব তার ইজিবাইকে বন্দি। সাধারণত এই বয়সে শিশুরা খেলাধুলা, পড়াশুনা আর দুষ্টুমিতে মেতে থাকে। কিন্তু জান্নাতুলের শৈশব আর দশটা শিশুর শৈশবের মতো নয়। তার জীবনযাপন সম্পূর্ণ ভিন্ন। দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় পার হয় পিতার ইজিবাইকে। পিতা ইজিবাইক চালান,আর শিশু জান্নাতুল তার ডান পাশেই বসে থাকে। তিন বেলা খাবার খেতে হয় হোটেলে। রাতে পিতার সাথেই ঘুমাই ইজিবাইক চার্জ দেয়া গোডাউনে। ১ বছর আগে সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ায় মায়ের আদর-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে এভাবে রাস্তায় রাস্তায় শৈশব পার হচ্ছে জান্নাতুল ফেরদাউস মাওয়ার। তার লেখাপড়ার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহ থাকলেও তা আর হয়ে উঠছেনা।
জান্নাতুল মাওয়া জানায়, তার আম্মু চলে গেছে। এখন তাকে দেখার মতো কেউ নেই। আব্বু ইজিবাইক চালায়, আমি পাশে বসে থাকি। হেটেলে খাই, গোডাউনে ঘুমাই। কথা বলতে বলতে হাসি মুখটা অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়।
ইজিবাইক চালক মুন্না মিয়া জানান, তার বাড়ি যশোর শহরের বেজপাড়া তালতলা এলাকায়। চাচাতো ভাইয়েরা মিলে পৈত্রিক সম্পত্তি কৌশলে দখল করে নিয়েছে। এই ঘটনার পর তার স্ত্রীও সংসার ছেড়ে চলে গেছে। বর্তমানে তার বসতবাড়ি নেই। শহরে ঘর ভাড়া করে থাকার মতো সামর্থ্য নেই তার। কেননা সারাদিন ইজিবাইক চালিয়ে যে অর্থ রোজগার হয় তা দিয়ে কোন রকম খাওয়া দাওয়া চলে। তাই একমাত্র মেয়ে জান্নাতুলকে নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় দিন রাতের অধিকাংশ সময় পার হয় তার। ভোর থেকে গভীররাত পর্যন্ত ইজিবাইকে তার (মুন্না) পাশে বসে থাকে। গভীররাতে ফিরে ইজিবাইক চার্জ দেয়া গোডাউনে তাদের রাত কাটে। তিনি আরো জানান, একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তারও স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু অর্থের কারণে তা হয়ে উঠছেনা। অর্থ সংকটের কারণে মেয়েকে স্কুলেও ভর্তি করাতে পারছেন না। কোন সুহৃদ ব্যক্তি যদি দৃষ্টি দেন তাহলে শিশু জান্নাতুল ফেরদাউস মাওয়া লেখাপড়া করতে পারবে। পথে পথে তার রাত দিন পার হবেনা।
নাজির শংকরপুর এলাকার শামিমুর রহমান জানান, মুন্না মিয়া তার ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে চালায়। শিশু মেয়েটি সব সময় তার সাথেই থাকে। তাই মানবিক কারণে ইজিবাইক চার্জ দেয়া গোডাউনে পিতা-মেয়েকে রাতে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছি।