পূর্ববঙ্গে জাতীয়তাবাদ, ভাষা আন্দোলন. জাতিসত্ত্বা ও জাতিরাষ্ট্র

পূর্ববঙ্গে বা বর্তমান বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ বিকাশের উৎস খুঁজতে হলে প্রথমেই ভূখণ্ডের চেতনা বা আঞ্চলিকতার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসতে হবে। আবহামান কাল থেকে পূর্ববঙ্গে অনেক নরগোষ্ঠী বাস করতো, যদিও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল কম। কৃষি সভ্যতার  বিস্তৃতির ফলে বিভিন্ন কৌমের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি হয় এবং ক্রমশ গঠিত হতে থাকে বঙ্গ, পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, রাঢ় ইত্যাদি। প্রাচীন যুগে পাল ও সেন রাজারা বাংলাকে অনেকখানি একত্রিত করেছিলেন এবং মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে ‘বাংলা’ দেশে তা পূর্ণতা পায়। যদিও আধুনিক জাতীয়তাবাদী চেতনার সাথে ওইসব একত্রিকরণের মৌলিক প্রভেদ রয়েছে, তবে কৌম চেতনার বিষয়টি, প্রাচীন, মধ্যযুগের মতো আজও বহমান। আবার রাষ্ট্রের জন্য দরকার হয় এমন একটি ভাষা, যা দিয়ে পালন করা যায় রাষ্ট্রের দরকারি সব কাজ। মধ্য যুগে বাঙালির জাতীয় চেতনা আজকের মতো ছিলো না। কিন্তু সুপ্তভাবে তা দেখা দেয় ক্রমশ, এবং উনিশ শতকে ওই চেতনা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়। বাংলা ভাষারও বিকাশ ঘটতে থাকে।

ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় থেকে কলকাতা কেন্দ্রিক নবজাগৃতির হাত ধরে জাতীযতাবাদী চেতনার বিকাশ শুরু হয়। ঔপনিবেশিক শাসনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বাঙালি হিন্দু দেখতে পেল যে, পাশ্চাত্য আধুনিকতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে তারা অপ্রস্তুত। ফলে তৎকালীন সমাজকাঠামো ও ঔপনিবেশিকতার পরিসীমায় যতটুকু পরিবর্তন ও আধুনিকায়ন সম্ভব ছিল, ঠিক ততটুকু পদক্ষেপ গ্রহণ করে এরা। কলকাতার গুটি কয়েক উচ্চবর্গীয় এলিটদের চিন্তায় বাংলার বৃহত্তর সম্প্রদায় মুসলিম সমাজের কথা যেমন ছিল না তেমনি অন্যদের ক্ষেত্রেও এদের প্রভাব ছিল অত্যন্ত সীমিত। যাহোক, উনিশ শতকের শেষে এবং বিশ শতকের প্রথম দিকে একটি সময় সর্বভারতীয়, আঞ্চলিক (বৃহত্তর বাংলা) ও উপ-আঞ্চলিক (পূর্ব বাংলা) তিনটি স্বতন্ত্র চেতনাও কাজ করছিল। কলকাতার বিপরীতে পূর্ব বাংলার কাঠামোগত দূর্বলতা এখানকার মধ্যবিত্তদের মধ্যে এক উপ-আঞ্চলিক চেতনতার জন্ম দিয়েছিল। তখন পূর্ব বাংলা ছিল কলকাতার পশ্চাৎভূমি, এখানকার উৎপাদিত কাঁচামাল চলে যাচ্ছিল কলকাতায় কিন্তু পাচ্ছিল না নায্যমূল্য। তাছাড়া পূর্ববঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল অবহেলিত। উনিশ শতকে পূর্ববঙ্গের সমাজ নিয়ে সম্প্রতি বেশ চিত্তাকর্ষক কিছু গবেষণা হয়েছেন  যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় এবং এর পরবর্তী সময়ে এই উপ-আঞ্চলিক চেতনা আরও বেগবান হয়েছিল। পূর্ববঙ্গের মধ্যবিত্তদের চেতনার বাহন যেসব সংবাদ ও সাময়িকপত্র সেখানেও এসবের পরিচয় পাওয়া যাবে। পূর্ববঙ্গে শিল্পের অনুপস্থিতি ও কৃষিনির্ভর জীবন উপ-আঞ্চলিক চেতনা বিকশিত করেছিল। ইতিহাসের জটিল স্রোতে পূর্ববঙ্গের উপ-আঞ্চলিক চেতনা কখনই বিলুপ্ত হয়নি এবং ১৯৭১ সালে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাথে যুৎসইভাবে মিশে গিয়েছিল।

বাংলা ভাষা ও বাঙালি জাতি এক ধরনের ঐক্য তৈরি করলেও পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের এমন কিছু আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য আছে যা পরস্পরকে স্বতন্ত্র করে রেখেছে। প্রকৃতিগতভাবেও পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের  চেয়ে ভিন্ন। যেমন, মৃতপ্রায় বা প্রাচীন ব-দ্বীপ যার অধিকাংশ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গে এবং দ্বিতীয়ত, সক্রিয় ব-দ্বীপ যার প্রায় সবটাই পড়েছে পূর্ববঙ্গে। সংক্ষেপে বলা যায়, পূর্ববঙ্গ বা বাংলাদেশে ব-দ্বীপ গঠন প্রক্রিয়া এখনও চলমান। নদীই বাংলার ইতিহাস ও সভ্যতার স্রষ্টা। সেই আলেকজান্ডারের সময়ে এখানে ছিল নদীমাতৃক গঙ্গাঋদ্ধি রাজ্য। অর্থাৎ নদীই বাঙালি চরিত্রকে রূপায়ন করেছে এবং বৈচিত্র্যময় করেছে বাঙ্গলিক সমাজ ও সংস্কৃতিকে। পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় সক্রিয় ব-দ্বীপ পূর্ববঙ্গে রয়েছে অনেক বেশি নদনদী যা বর্তমান বাংলাদেশকে জালের মতো জড়িয়ে রেখেছে। সাংস্কৃতিক দিক থেকেও পূর্ববঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে কিছু দৃশ্যমান পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, পশ্চিমবঙ্গের উপর উত্তর ভারতের তথাকথিত ‘উচ্চ সংস্কৃতির’ (High Culture) প্রভাব পড়েছিল যা সেখানকার স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে লক্ষ্য করা যায়। উত্তর ভারতের ‘উচ্চ সংস্কৃতির’ প্রভাব বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও  পড়েছিল। তবে পূর্ববঙ্গে মুসলমানদের আগমন, তাদের সংগঠিত ধর্মজীবন, পতিত জমি উদ্ধার, কৃষি বাণিজ্যের ব্যাপ্তি, সর্বোপরি সুফিদের প্রভাব গ্রাস করেছিল উত্তরবঙ্গকে। ফলে, কালক্রমে রাঢ়বঙ্গের সন্নিহিত উত্তরাঞ্চলে উত্তর ভারতীয় ‘উচ্চ সংস্কৃতির’ প্রভাব লুপ্ত হতে থাকে, ক্রমশ উত্তরবঙ্গ পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক চেতনার সাথে মিলে-মিশে একাকার হয়ে যায়।

বাংলা ভাষার উৎপত্তি এবং বিকাশের সময় তা প্রাচীন, মধ্য কী আধুনিক যুগ হোক না কেন- সেখানে সাধারণ মানুষের একটি বড় ভূমিকা আমরা লক্ষ্য করি। ক্রমশ বাংলা হয়ে গেছে যে বাঙালির, বাঙালি মুসলমানের ভাষা। সত্যটা ছিল শুরু থেকেই, কিন্তু তা মেনে নিতে চলে যায় দীর্ঘ সময়। ওই কলহে বিশ শতকের কয়েক দশক ধরে বাংলাবিরোধী শ্রেণীটি উর্দুকে গণ্য করেছে তাদের ভাষা বলে। কিন্তু বাংলাপন্থীরা নানাভাবে দেখিয়েছেন যে বাঙালি মুসলমান বাঙালি।

যেমন হামেদ আলি বিশ শতকের শুরুর দিকে একটি শ্রেণির অদ্ভুত পাগলামোর কথা লিখেছিলেন এভাবে, ‘‘তাঁহারা  বাঙ্গালার বাঁশবন ও আম্রকাননের মধ্যস্থিত পর্ণকুটীরে নিদ্রা যাইয়াও এখনও বোগ্দাদ, বোখারা, কাবুল, কান্দাহারের স্বপ্ন দেখিয়া থাকেন। কেহ কেহ আবার বাঙ্গালার পরিবর্তে উর্দুকে মাতৃভাষা করিবার মোহে বিভোর। দুর্বল ব্যক্তিরা যেমন অলৌকিক স্বপ্ন দর্শন করে, অধঃপতিত জাতিও তেমনি অস্বাভাবিক খেয়াল আঁটিয়া থাকে।’’

বিশ শতকের মাঝামাঝি অদ্ভুতদেশ পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল প্রধানত ধর্মীয় উম্মাদনা থেকে। অবশ্য “কৃষকদের অর্থনৈতিক মুক্তির অলীক স্বপ্ন” এর মধ্যে ছিল। বিশেষত পূর্ববঙ্গের কৃষকদের জমিদারি ব্যবস্থা থেকে মুক্তির কথা ১৯৪৬ এর নির্বাচনে যুক্ত হয়েছিল (ফলে মুসলিম কৃষক ও নিম্নবর্ণের হিন্দুরা মুসলিম লীগকে ওই নির্বাচনে ভোট দিয়েছিল)। সাতচল্লিশ থেকে একাত্তর পর্যন্ত বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল অদ্ভুত পাকিস্তানের। বাঙালিকে, বাংলাকে বিনষ্ট করাই ছিল পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশ্য। পাকিস্তান ছিলো একটি মধ্যযুগীয় প্রগতিবিরোধী দেশ। সেখানে ক্ষমতা দখল করতো দেশের অধিবাসীদের থেকে বিচ্ছিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল মানুষেরা; আর বড়োবড়ো শরীরের সেনাপতিরা। পাকিস্তানে অস্ত্র আর চক্রান্ত ছিল সবচেয়ে বড়ো ব্যাপার। পাকিস্তানের সিংহাসন যারা দখল করেছিল, শুরু থকেই তাদের মনে হয়েছিলো পাকিস্তান টিকবে না। তাদের ভয় ছিলো বাঙালিদের। তাই শুরু থেকে পাকিস্তান চক্রান্ত করে বাংলা ও বাঙালির বিরদ্ধে। চারদিক থেকে পাকিস্তানি শাসকেরা আক্রমণ করে বাংলা ভাষাকে। কখনো তারা বাংলা ভাষার লিপি বদলাতে চায়। বাংলা বর্ণমালার বদলে চাপিয়ে দিতে চায় ইংরেজি, আরবি অক্ষর। কখনো বানান সহজ করার নামে চক্রান্ত করে বাংলার বিরুদ্ধে। কখনো বাংলা ভাষাকে পৌত্তলিক নাম দিয়ে বাঙালি মুসলমানকে বিমুখ করে তুলতে চায়। এবং রাষ্ট্রভাষার নামে উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চায় বাঙালির ওপর। বাঙালিরা যদি গ্রহণ করতো উর্দুকে, মেনে নিতো পাকিস্তানি চাপ, তাহলে বাংলা ভাষা এগুতো অবলুপ্তির দিকে। কিন্তু বাঙালি তা হতে দেয়নি।

পাকিস্তানের জন্মের একমাস আগেই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায় বাংলার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র। আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রস্তাব করে যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু। এতেই সূচনা ঘটে একটি আন্দোলনের। ওই আন্দোলনের প্রথম বড় পরিণতি উনিশ শ বায়ান্নোর বিদ্রোহ; এবং পরম পরিণতি একাত্তরের স্বাধীনতা। সাতচল্লিশে ভারত ভেঙে দুটি দেশের উদ্ভব ঘটে। তার একটি পাকিস্তান। পাকিস্তানে যার প্রতাপ ছিলো নিরঙ্কুশ, তার নাম মুহম্মদ আলি জিন্না। জিন্নাই পাকিস্তানে প্রথম বাংলার সাথে শত্রুতা শুরু করেন। আর তাকে অনুসরণ করে অন্যরা। পাকিস্তানের শুরু থেকেই আন্দোলন শুরু হয়ে যায় বাংলার পক্ষে, বাংলাদেশে। ১৯৪৮-এ জিন্না ঢাকা এসে ঘোষণা করে যে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনো ভাষা নয়’। প্রতিবাদ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। তারা দাবি করে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেয়ার। একটি জাতির ভাষা শুধু পরস্পরের সাথে কথা বলার মাধ্যম নয়। ভাষা জড়িত তার অস্তিত্বের সাথে। তাই গড়ে তুলতে হয়েছে আন্দোলন। এ আন্দোলনে ছাত্ররাই নেয় সক্রিয় ভূমিকা।। ১৯৫২-র ৮ ফাল্গুনে, ২১-এ ফেব্রুয়ারিতে, বৃহস্পতিবারে, ঢাকার রাজপথে ঝরে পড়ে ছাত্রদের রক্ত। তাদের অপরাধ তারা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চেয়েছিল। রক্তে লাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। সেদিনই বোঝা যায় পৃথিবীতে একটি নতুন স্বাধীন দেশের জন্ম আসন্ন। উনিশ বছর পরই জন্ম নেয় সে-দেশটি। বাংলাদেশই সে-অনন্য দেশ পৃথিবীর, যার জন্মের মূলে কাজ করেছে ভাষা। আছে আরো একটি বিস্ময়কর ব্যাপার। বাংলাদেশই সম্ভবত একমাত্র দেশ, যার নাম ভাষার নামে। বাংলা- দেশ। ভাষা বাংলা, দেশও বাংলা। পৃথিবীর একটিমাত্র দেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা। সেটা এই অপরাজেয় বাংলাদেশ।

ইতিহাসের নানামুখী স্রোতে পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক চেতনা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম হাত ধরাধরি করে এগিয়ে গেছে, তীব্র আবেগ ও ভালবাসায় সিক্ত হয়েছে। পূর্ববঙ্গের মানুষ যেন চির বিদ্রোহী। ফলে এখানে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী অসংখ্য কৃষক বিদ্রোহ সংঘটিত হয়েছে, যেখানে একই সঙ্গে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসন ও এলিট শ্রেণির আধিপত্যের বিপরীতে কৃষকদের নিজস্ব স্বাধীন জগৎ নির্মাণের লক্ষণ ছিল। কৃষি প্রধান পূর্ববঙ্গে বা বাংলাদেশেই অধিকাংশ কৃষক বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল এবং ব্রিটিশ শাসনের সময় কৃষক বিদ্রোহের অগ্নিশিখা কখনই নিভে যায়নি। বিশ শতকে পূর্ববঙ্গের বিদ্রোহী কৃষক জমিদার প্রথা বিলুপ্তির আশায় পাকিস্তান নামক একটি ‘কল্পরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সামিল হয়েছিল। কিন্তু ‘কল্পরাজ্য’-এর খলনায়করা যখন ঔপনিবেশিক শাসনের নতুন জিঞ্জির পড়িয়ে দিতে উদ্ধত হয়, মুখের ভাষা কেড়ে নিতে বাঙালি ছাত্রদের বুকে গুলি চালায়, তখনই ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সার্থক সংগ্রামের সূচনা হয়।

এভাবে একটি শক্ত জমিতে দাঁড়িয়ে ১৯৭১ সালে বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় হয়েছিল। জাতি হিসেবে বাঙালির যে সংগ্রামী চেতনা গড়ে উঠেছে তার মূলে রয়েছে ভৌগোলিক ভাঙ্গাগড়া ও অবস্থানের অবদান। অবদান রয়েছে এদেশের জলবায়ু, আবহাওয়া, মুখের ভাষা এবং বাংলা অঞ্চলের মানুষের রোমাঞ্চকর ইতিহাসের। সে ইতিহাস বাঙালি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, নানা ঘাত প্রতিঘাতের ইতিহাস। সে ইতিহাস কখনো অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ইতিহাস, কখনো বহি:শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস। কখনো বা সে ইতিহাস উপনিবেশবাদ (ব্রিটিশ), নয়া উপনিবেশবাদ (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ (পাকিস্তান) বিরোধী মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস। আর ইতিহাসের পাতায় সংগ্রামে সংগ্রামে পরিচয় গড়ে উঠেছে বাঙালি জাতির। বিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদী নেতা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এবং তার মহান আদর্শে ১৯৭১ সালে সে সংগ্রামী ইতিহাস রূপান্তরিত হয় স্বাধীনতার জীবনপন যুদ্ধে।