যশোরে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, নারীসহ আহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে মামুন হোসেন (৩৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরিফ (২৬) ও শেফালী বেগম (৪২) । গত শনিবার বিকেলে শহরতলীর শেখহাটি ভাটার জোড়াপুকুর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় পুলিশ আহত শেফালীর ভাই বাবলাকে হাসপাতাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তিনি সদর উপজেলার তালবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে ষষ্টিতলা এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।
নিহত মামুন ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের রবিউল ইসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম মৃত আব্দুর রউফ। আর আহত আরিফ পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার বজলু খলিফার ছেলে। তিনি এমএম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শেফালী বেগম শেখহাটি এলাকার হারুন শেখের স্ত্রী।
শেখহাটি এলাকার সাজ্জাদ নামে এক যুবক জানিয়েছেন, তার ভাই বাপ্পাকে শেখহাটি এলাকার শেফালীর ছেলে হৃদয়, একই এলাকার ফয়সালসহ ৪/৫ জন আটকে রাখে। তিনি মোবাইল ফোনে সংবাদ পেয়ে সেখানে বন্ধু রায়হানসহ বেশ কয়েকজন যান। এরপরই সেখানে যান নিহত মামুন, আহত আরিফসহ বেশ কয়েকজন। সেখানে পৌছালে হৃদয়, তার ভাই সাগর, ফয়সালদের সাথে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। সে সময় শেফালী বেগম ঠেকাতে গেলে তিনি ছুরিকাঘাতে জখম হন। পরে মামুন ও আরিফকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। কিছু সময় পর সবাই স্থান ত্যাগ করলে আহত আরিফ মোবাইল ফোনে তার পরিচিতদের জানালে কিছু লোক গিয়ে তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতালে নেয়ার পর মামুন মারা যান। কিন্তু কেন বাপ্পাকে আটকে রাখা হয়েছিল এই বিষয়ে তিনি (সাজ্জাদ) কিছু জানাতে পারেননি।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কল্লোল কুমার সাহা জানিয়েছেন, হাসপাতালে নেয়ার আগেই মামুন মারা যান।
সার্জারি বিভাগের সহকারি রেজিস্ট্রার ডা. মনিরুজ্জামান লড জানিয়েছেন, আহত দুইজনের মধ্যে আরিফের অবস্থা আশংকাজনক।
নিহতের ভাই আতিক জানিয়েছেন, চার ভাই এক বোনের মধ্যে মামুন সবার বড়। তার জেসটাওয়ারে একটি মোবাইল ফোনের দোকান ছিল। বর্তমানে সেটি ভাড়া দেয়া। এখন কিছু করে না মামুন। তিনি বলেছেন, হঠাৎ জানতে পারি বড়ভাই মারা গেছে। হাসপাতালে এসে মর্গে লাশ দেখতে পাই। এছাড়া হত্যার বিষয়ে কিছু জানেন না।
আহত আরিফের মা নাসরিন বেগম জানিয়েছেন, আরিফ এমএম কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। কারা তাকে কেন মারলো তা তিনি জানেন না। কি জন্য শেখহাটি গিয়েছিল তাও তিনি বলতে পারেন না।
শেখহাটি এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, বাপ্পা নামে এক যুবক একটি মেয়েকে নিয়ে ঘোরাফেরা করছিলো। বিকেলে বাপ্পা ও মেয়েটিকে আটকে রাখে হৃদয়, সাগর, ফয়সালসহ বেশ কয়েকজন। বাপ্পাকে আটকে রাখার বিষয়ে জানার জন্য সেখানে যান নিহত মামুন, আহত আরিফসহ বেশ কয়েকজন। পরে তাদের মধ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। কিন্তু মেয়েটির পরিচয় জানাতে পারেনি সূত্রটি ।
এদিকে, আহত শেফালীকে হাসপাতালে নেয়ার পর নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা দৌড়াদৌড়ি করে শেফালীকে মারতে উদ্যত হয়। কিন্তু সেখান থাকা পুলিশ উত্তেজিতদের জরুরি বিভাগে ঢুকতে দেয়নি। ফলে কোন অঘটন ঘটেনি।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানা ওসি অপূর্ব হাসান জানিয়েছেন, শনিবার সন্ধ্যার কিছু সময় আগে শেখহাটি ভাটার পুকুর নামক স্থানে একটি মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় একজন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি। দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। আসামিদের আটকের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।