পর্যটক হারাচ্ছে সুন্দরবন

এরশাদ হোসেন রনি, মোংলা >
ভ্রমণে অব্যবস্থাপনা, পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব, দর্শনীয় এলাকাগুলো আকর্ষণীয় না হওয়াসহ নানা সংকটে পর্যটক হারাচ্ছে সুন্দরবন। পর্যটনের ভরা মৌসুমেও বনের দর্শনীয় স্থানগুলো খা খা করছে। শুধু মৌসুমেই নয়, সারা বছর ধরেই পর্যটকের আনাগোনা কমছে সুন্দরবনে।
বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। এ বন দেখার আগ্রহ রয়েছে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের। প্রতি বছর শীত মৌসুমে পর্যটকদের ভিড় জমে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্র করমজল, হাড়বাড়িয়া, হিরণপয়েন্ট, নীল কমল, কটকা-কচিখালী, দুবলাসহ বিভিন্ন এলাকায়। কিন্তু এবার পর্যটকদের আনাগোনা খুবই কম, একবারে নেই বললেই চলে। সুন্দরবনের সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যটন কেন্দ্র করমজল পর্যটক কেন্দ্রটি এক কথায় শূন্য হয়ে পড়েছে। মৌসুমের এই সময়ে যেখানে পর্যটকদের ঢলে হিমশিম খেতে হতো বনপ্রহরীদের আর এখন সেই সময়ে তাদের অলস সময় কাটচ্ছে।
পর্যাটন পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭ সালের নভেম্বরে করমজলে পর্যটক আসে ৬,৩৬৮ জন, ২০১৮ সালের নভেম্বরে কমে হয় ৫,৬৫৯ জন। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে ১৩,২৫৪ জন, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কমে ৮,৫৭০জন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে পর্যাটক ছিল ১১, ৩৯৭জন চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা অর্ধ্যেেক নেমে এসেছে। পর্যাটক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৮৩২জন।
যারা সুন্দরবনে এসেছে তাদের মুখেও শোনা গেছে না খেদ। অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বেশি আলোচিত হয়েছে। অবস্থা এমন হয়েছে সুন্দরবনের প্রধান পর্যটন স্পট করমজলে একবার কেউ আসলে দ্বিতীয়বার আসতে চাচ্ছে না। এরমুল কারণ হলো দীর্ঘদিনেও এখানে আকর্ষনীয় কোন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি, আনা হয়নি কোন ধরণের নতুনত্ব। পুরানো ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে ফুট টেইলার এবং ওয়াচ টাওয়ারটি। আটকে রাখা কয়েকটি হরিণ, বানর ও কুমির ছাড়া তেমন কিছুই দেখার নেই সেখানে। রয়েছে বানরের ব্যাপক উৎপাতও।
দীর্ঘদিন ধরে একই অবকাঠামো ও নতুন কোন আকর্ষণ সৃষ্টি করতে না পারায় দিনকে দিন পর্যটকের সংখ্যা কমছে বলে জানিয়েছে করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আজাদ কবির। তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাবে এখানে এসে চরম ভোগান্তীতে পড়তে হয় বিশেষ করে নারী ও শিশুদের। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সেভ দ্যা সুন্দরবন ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলো ভ্রমণের সুব্যবস্থা, আকর্ষনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, খাঁচায় বাঘ কিংবা অন্যান্য বন্যপ্রাণীর শোভা বৃদ্ধিসহ দর্শনার্থীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করা গেলে পর্যটকদের আগমন ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাবে। সেজন্য সরকারকে অবশ্যই এ পর্যটন শিল্পের প্রতি নজর দিতে হবে।