আজ শুধু ভালবাসা

বিল্লাল হোসেন >
ভালোবাসার কোন বর্ণ নেই, গন্ধ বা রঙও নেই… নেই কোন আকার। তবুও পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দগুলোর একটি ‘ভালোবাসা’। আজ ফাল্গুন আর বসন্তের দ্বিতীয় দিন। ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস। পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবসকে আপন করে নিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। ফাল্গুন আর ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে আজ মুখর হবে নানা বয়সের মানুষ। যেন হৃদয় রাঙানোর মহাদিনে একে অপরকে বলবে সখি ভালোবাসি তোমায়। এই দিনে মন খোলা যায়। কেমন সে দিন,কেমন দিনে তাকে বলা যায়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বেছে নিয়েছেন ‘ঘনঘোর বরষা’। কেন বরষা তার কারণও তিনি উল্লেখ করে বলেছেন, সে কথা শুনিবে না কেহ আর/ নিভৃত নির্জন চারি ধার/ দুজনে মুখোমুখি গভীর দুখে দুখি, আকাশে জল ঝরে অনিবার/জগতে কেহ যেন নাহি আর কেবলি আঁখি দিয়ে আঁখির সুধা পিয়ে, হৃদয় দিয়ে হৃদি অনুভব/আঁধারে মিশে গেছে আর সব’। অসাধারণ কল্পনা। তবে ঘনঘোর বরিষা না হলে কি সে কথা বলা যাবে না। রবীন্দ্রনাথ তার এ গানেই বলেছেন, তাহাতে এ জগতে ক্ষতি করে/নামাতে পারি যদি মনোভাবে দু’কথা বলি যদি কাছে তার/ তাহাতে আসে যাবে কি বা কার’। মনোভাবে নামানো নিয়েই যখন কথা তখন হোক না সে দিন শীত, গ্রীষ্ম কিংবা বসন্তের। বরষা অনেক দেরি আপাতত বসন্ত দাঁড়িয়ে দুয়ারে।
ভ্যালেন্টাইনস ডে বা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’র সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক কিংবদন্তী। এর কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যে তা আজ আর হলফ করে বলার উপায় নেই। তবে আজ যখন ভোর হবে, সব বিরোধিতা, সব সমালোচনা দূরে ঠেলে দেশে দেশে মানুষ হয়তো আপন আপন ভাষায় গেয়ে উঠবে ‘এই সুরে কাছে দূরে, জলে স্থলে বাজায় বাঁশি-ভালোবাসি ভালোবাসি, আর বিনোদন কেন্দ্রগুলো সরব হবে তরুণ-তরুণীর পদচারণায়। ভালোবেসে সখি নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখে রেখো তোমার মনের মন্দিরে। এদিনেই প্রেম দেব কিউপিড প্রেমশার বাগিয়ে হৃদয়ে বন্দরে ঘুরে বেড়াবে। সে অনুরাগেই প্রেম পাগল প্রেমিক প্রেমিকারা পরাণ তাড়িত হয়ে বিদ্ধ হবে দেবতার বাঁকা ইশারায়। ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার শুভেচ্ছা শুধু প্রমিক প্রেমিকা নয়, প্রযোজ্য বাবা-মা- ভাইবোন, বন্ধু সকলের ক্ষেত্রেই। প্রযুক্তি কল্যাণে হাইটেক, ডিজিটালের যুগে মুঠোফোনের ক্ষুদে বার্তা, ই-মেইল, অথবা ফেসবুকে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় পল্লবিত হয়ে ওঠে বুধবার রাত ১২টার পর থেকেই গোলাপের ইশারা বিনিময়, আর মনের গহীনের কথকতার কলি ফোটাবে তারা। ভালোবাসা নিয়ে কবিতা আর গান সুরে-বেসুরে শোনানো হবে প্রিয়জনকে। এই দিনটি যেন শুধু ভালোবাসাবাসি ও কাছে আসাআসির। হৃদয়ের গহীনে চন্ডিদাসের সেই বিখ্যাত পদ ‘দুহূ কোরে দুহূঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/অর্ধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/সখি কেমনে বাঁধিব হিয়া’। ভালোবাসার এই দিনে চকোলেট, পারফিউম, বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনরা এক অপরকে উপহার দেবে। কেউ কেউ খোঁপায় গুজে দেবে গোলাপ। ভালোবাসা দিবস ঘিরে মানুষে মানুষে বন্ধুত্ব, মমতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। রয়েছে ভালোবাসার স্মৃতিচারণা, কবিতা আবৃত্তি, গান, ভালোবাসার চিঠি পাঠ ও ভালোবাসার দাবিনামা উপস্থাপনসহ নানা কর্মসূচি। দিবসটি উপলক্ষে যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বিনোদন কেন্দ্রগুলো মুখরিত হবে প্রেম পিয়াসীদের পদচারণায়।
কথিত আছে, ২৬৯ কিংবা ২৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান স¤্রাট ক্লডিয়াস মৃত্যুদন্ড দেন সেন্ট ভ্যালেইন্টাইনকে। কারো মতে, অন্ধ প্রেমিকার চোখের দৃষ্টি ফেরাতেই জীবন দিতে হয়েছে তাকে। কেউ বলে, বিয়ে প্রথা নিষিদ্ধের বিবুদ্ধে নিজে বিয়ে করে বিদ্রোহী হন তিনি। আবার কারো মতে, রোগীর সেবা আর খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারের অপরাধে জীবন দিতে হয় চিকিৎসক ভ্যালেনটাইনকে। ভালোবাসার এই হৃদয় ছোঁয়া অমর ঘটনাকে স্মরণ করে রাখতে পোপ প্রথম জুলিয়াস ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারিকে সেন্ট ভ্যালেন্টাইন ডে হিসেবে ঘোষণা করেন।