‘মোবাইলের ভিডিও কলে তাকে পাচারকারীদের দেখায় নিলুফা’

নিজস্ব প্রতিবেদক>
ঢাকায় ভালো বেতনে চাকরি দেয়ার কথা বলে কক্সবাজার থেকে তরুণীকে পাচারের উদ্দেশ্যে যশোরের মণিরমপুরে নিয়ে এসেছিল তার গ্রামের নিলুফা বেগম। তাকে পাচারকারীদের কাছে বিক্রির জন্য মোবাইলের ভিডিও কলে বেশ কয়েকবার দেখিয়েছে নিলুফা। পরে পাচার চক্রের সাদস্যরা এসে বাড়ির মালিককে টাকা দেয়ায় তার সন্দেহ হওয়ায় বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানিয়ে দেয়। গতকাল ওই তরুণীকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারকের কাছে এ তথ্য জানিয়েছে। বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক নুসরাত জাবীন নিম্মী এ জবানবন্দি গ্রহণ করে পিতার জিম্মায় দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।
জবানবন্দিতে ওই তরুণী জানিয়েছে, তার বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ইসলামনগর গ্রামে। পারিবারিক স্বচ্ছলতা না থাকায় প্রতিবেশি নিলুফা বেগম তাকে ঢাকায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। গত ৩/৪দিন আগে তার প্রস্তাবে রাজি হলে ঢাকায় নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে রওনা হয় নিলুফা বেগম। তাকে ঢাকায় না নিয়ে সরাসরি যশোরের মণিরামপুরে চলে আসে। মণিরামপুরের তাহেরপুর গ্রামের মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাকের বাড়িতে নিয়ে যায়। মুস্তাকের চার স্ত্রী। এর মধ্যে একজন যশোর সদর উপজেলার আবাদকচুয়া গ্রামে থাকে। একদিন পর মণিরামপুর থেকে তরুণীকে নিয়ে যায় আবাদ কচুয়া গ্রামের মুস্তাকের বাড়িতে। সেখানেও একদিন রাখার পর আবার নিয়ে যায় তাহেরপুরে। সেখান থেকে মোবাইলে ভিডিও কল করে এক ব্যক্তিকে মেয়েটিকে দেখায়। এরই মধ্যে অপরিচিত আরো কয়েকজন লোকজন মুস্তাকের তাহেরপুরের বাড়িতে আসে তাকে দেখতে। তারা মুস্তাককে কিছু টাকাও দেয়। এতে মেয়েটির সন্দেহ হয় যে ওরা পাচার চক্রের লোক। এরপর তার জন্য খাবার আনতে গেলে ঘরের দরজা খুলে দৌড়ে রাস্তায় গিয়ে চিৎকার করে মেয়েটি। এসময় পাশের বাড়ির লোকজন মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানায় সংবাদ দেয়। পুলিশ এসে তাকে হেফাজতে নেয় বলে জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে মণিরামপুর থানার এসআই প্রশান্ত কুমার দাস বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার ও প্রতিরোধ আইনে একটি মামলা করেন। আসামিরা হলো তাহেরপুর গ্রামের এনায়েত মহুরীর ছেলে মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাক, তার প্রথম স্ত্রী আবাদ কচুয়ার ফাতেমা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মণিরামপুরের ঘুঘুরাইল গ্রামের রোকসানা বেগম, তৃতীয় স্ত্রী কাশিপুর গ্রামের রোজিনা বেগম, শার্শা উপজেলার বালুন্ডা গ্রামের মৃত মোকসেদ আলীর ছেলে আরব আলী জুজু এবং কক্সবাজারের নিলুফা বেগম। বুধবার ওই মেয়েকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে ওই জবানবন্দি দিয়েছে।