যশোরে বসন্তবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক>বসন্তের আলিঙ্গনে ফুল ফোটার পুলকিত এইদিনে শুধু বনে নয়, মন কাননে পারিজাতের রঙিন কোলাহলে ভরে উঠছে চারিদিক। ফাগুনের আগুন লাগা প্রকৃতির সাথে বুধবার যশোরে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করা হয়েছে নানা আয়োজনে।
বসন্তের প্রথম দিনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনের ঝুলিতে ছিল গান, নৃত্য পরিবেশন এবং কবিতা আবৃত্তি। এদিন বিকাল ৪টা ১ মিনিটে উদীচী যশোর পৌরপার্কে বসন্ত বরণের আয়োজন করে। গান, কবিতা আর ছোটদের নাচের সাথে সবাই মেতে ওঠে। শিশু কিশোরদের সমবেত সংগীত তুমি যে সুরের আগুন দিয়ে অনুষ্ঠানের শুরু করা হয়। এরপর মমচিত্তে নিতি নৃত্যে পরিবেশন করা হয়।
পরে যশোর পৌরসভার মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। বসন্ত উৎসবে যশোরের মানুষ একসাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। পৌরপার্ক বিনোদনের উপযোগী করা হয়েছে। আমি যে ওয়াদা নিয়ে ভোটে জিতেছি। সেই ওয়াদা পূরণ করার চেষ্টা করছি। শিগগিরই যশোর পৌর এলাকাকে আবর্জনামুক্ত ঘোষণা করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও উদীচীর উপদেষ্টা একরাম উদ দৌলা, দৈনিক স্পন্দনের নির্বাহী সম্পাদক মাহাবুব আলম লাবলু, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান বিপ্লব, যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো: শরিফ হাসান, সচিব আজমল হোসেন প্রমুখ।
শহরের টাউনহল মাঠে সাংস্কৃতিক সংগঠন পুনশ্চ আয়োজন করে বসন্ত উৎসবের। ছোটদের সমবেত গান ওরে গৃহবাসী খোলদ্বার খোল, সবুজ পাতা ও নতুন পাতা গানের মধ্যে দিয়ে শুরু করা হয় উৎসবের। এরপর একে একে দ্বৈত গান, একক কবিতা আর নৃত্যের আয়োজন ছিল।
চাঁদেরহাট যশোর বিকেলে বসন্তবরণ উৎসবে মেতে ওঠে কালেক্টরেট পার্কে। এখানে আয়োজন করা হয় নৃত্য আর গানের অনুষ্ঠানের। শুভেচ্ছা জানান বসন্তবরণ উৎসব পর্ষদের আহবায়ক ডা. ইয়াকুব আলী মোল্যা, সদস্য সচিব তুরানী চৌধুরী, গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিনসহ অন্যান্যরা।
এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) উৎমবের সাথে বসন্তের প্রথম দিনকে বরণ করে নেওয়া হয়। মেয়েরা বাসন্তী শাড়ি আর ছেলেরা পাঞ্জাবি পরে মেতে উঠেন বসন্ত উৎসবে।
বসন্ত বরণ উপলক্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের গ্যালারিতে ‘বসন্ত বয়ে আনুক সুস্থ আনন্দ’ শীর্ষক বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে যবিপ্রবির ইংরেজি বিভাগ। অনুষ্ঠানে বসন্তের জনপ্রিয় গানের সঙ্গে দলীয় ও একক নৃত্য পরিবেশন করেন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী অতসী, মীমসহ আরও অনেকে। শিক্ষার্থীদের সুরেলা কণ্ঠের গান আর ভরাট গলায় কবিতা আবৃত্তিতে মেতে থাকেন দর্শকেরা।
সবচেয়ে মজার আয়োজন ছিল ইংরেজি বিভাগের তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী ও জনপ্রিয় কয়েকটি উপন্যাসের চরিত্রে চরিত্রায়ন। রবীনন্দ্রনাথের শেষের কবিতা উপন্যাসের অমিত-লাবণ্য চরিত্র, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে উপন্যাসের টুনি-মন্তু চরিত্র, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস উপন্যাসের দেবদাস-পার্বতী চরিত্র, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পুতুল নাচের ইতিকথা উপন্যাসের শশী-কুসুম চরিত্র, হূমায়ুন আহমেদের হিমু উপন্যাসের হিমু-রূপা চরিত্র, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শেখর-ললিতা চরিত্র, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের কুবের-কপিলা চরিত্র, রবীন্দ্রনাথের চোখের বালি উপন্যাসের বিনোদিনী-মহন্দ্রে চরিত্রে অভিনয় দর্শকদের বাহ্বা কুড়ায়। সর্বশেষ ‘বসন্ত এসে গেছে…’ গানে দলীয় নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে ইংরেজি বিভাগের বসন্ত উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে।
অনুষ্ঠানে কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো: মনিবুর রহমান, ফারজানা নাসরীন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, তন্ময় মজুমদার, প্রভাষক মো: আল ওয়ালিদ, ফারহানা ইয়াসমিন, ফারিহা-তুয যাহরা চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বসন্তের ঊষ্ণ হাওয়ায় যবিপ্রবি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়কের দুই পাশে ফুটেছে পিটুনিয়া, এনকা, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, পেনজি, স্টার, ড্রপ স্টার, সূর্যমুখি, কেলেনডোলা, সিলোশিয়া, ভারবিনা, ডালিয়া, ডাইনথাস, জিনিয়াসহ হরেক রকমের ফুল। হরেক রকমের বাহারি ফুল যেন ক্যাম্পাসে ফাগুনের আগুন লাগা সৌন্দর্য সৃষ্টি করেছে। প্রস্ফুটিত এসব ফুলে সুশোভিত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এখন যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা নয়ন জুড়ানো অপরূপ কোনো ছবি।