ভালোবাসাবাসিতে কাটলো সারাদিন

বিল্লাল হোসেন>
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে বৃহস্পতিবার যশোরের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। শুধু প্রেমিক-প্রেমিকা নয় স্বামী-স্ত্রী পিতা-মাতাসহ নানা সম্পর্কের মানুষের পদচারণায় মুখরিত ছিলো পরিবেশ। আগুন রাঙা ফাগুনের পর দিন ভালোবাসা দিবস হওয়ায় প্রেমিক-প্রেমিকার মনে উৎসবের মাত্রা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। একে অপরকে বলছে শুধু ভালোবাসি তোরে। ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে শহরের ফুল ব্যবসায়ীরা যে পসরা সাজিয়েছিলো তা ছিলো চোখে পড়ার মতো। ফুলের দোকান ও হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে ছিলো সরব উপস্থিতি। এক অন্যরকম দিন পার করলো তারা।
রৌদ্রজ্জল সকাল, রুপালী দুপুর আর মায়াবী রাত ছিলো কেবলই ভালোবাসার ক্ষণ। এদিন সকাল থেকেই যশোরের রাস্তাগুলোতে চলাচল শুরু হয় তরুণ-তরুণীদের। হাতে ছিলো লাল গোলাপ, রজনীগন্ধা ফুল ও নানা উপহার সামগ্রী। ভালোবাসা দিবসের জানান দিতে তারা বাহারী পোশাক ও সাজে রাস্তায় নামে। সকাল ৭টার দিকে যশোর শহরের দড়াটানা ও গাড়িখানা রোডের ফুলের দোকানগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আবার অনেকেই ফুল উপহার সামগ্রী নিয়ে ছুটে চলে যশোর শহর ও শহরতলীর বিনোদন পার্কগুলোতে। বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়ে কিছু সময় কিছু উপহার বিনিময় করছে তারা। হরেকরকমের ফুলের ভিড়ে সবাই লাল গোলাপকে বেশি প্রাধান্য দেয়। সকাল ৯ টার পর থেকেই যশোরের বিনোদন কেন্দ্রগুলো প্রেমিক-প্রেমিকাদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
অসংখ্য প্রেমিক জুটির পদচারণায় আনন্দ উৎসবে রুপ নেয় বিনোদন কেন্দ্রগুলো। অনেকেই আবার বই বা কার্ড উপহার দেয়ার ফাঁকে প্রিয়সীর চুলে ভালোবাসায় সিক্ত গোলাপ কলি গুজে দিয়ে প্রকাশ করে ভালোবাসার মাত্রাটা। তারা যেন হারিয়ে যায় অন্য ভুবনে। বসন্ত প্রেম আর রোমান্টিকতার মধ্য দিয়ে তাদের দিন অতিবাহিত হয়। ভালোবাসা দিবস শুধু প্রেমিক প্রেমিকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলো না। বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে বেড়াতে বের হয় অনেকে। এ যেন এক অন্যরকম আনন্দ ও অনুভূতি।
যশোর পৌর পার্ক, কালেক্টরেট পার্ক, উপশহর পার্ক, জেস গার্ডেন, বিনোদিয়া ফ্যামেলি পার্ক, বোটক্লাব, রামনগর ক্ষণিকা পিকনিক কর্ণার, বিমানবন্দর বাইপাস সড়ক ছাড়াও তরুণ-তরুণীরা জড়ো হয়েছিলো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিনোদন কেন্দ্রে বেড়াতে আসা কয়েক জুটি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ভ্যালেন্টাইনস ডে মানেই শুধুই ভালোবাসাবাসির দিন। আজ কোন উপহার মানে ভালোবাসা। যেন প্রতিটি কথার মধ্যে রয়েছে ভালোবাসা আর ভালোবাসা। প্রেমের প্রতিটি দিন বিশেষ হলেও আজকের দিনটি বিশেষের চেয়েও বিশেষ। কালেক্টরেট পার্কে আসা এক যুবক জানান,
কোন দিবসে ঘুরতে না গেলেও ভালোবাসা দিবসে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে ঘুরতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। আবার অনেকেই বলেন, প্রেমের কোন দিন থাকে না, ভালবাসলেই ভ্যালেন্টাইন, সেলিব্রেট করলেই ভ্যালেন্টাইন ডে। ভালোবাসার প্রতিটি দিনেই সুখ ছড়িয়ে থাকে। আজকের দিনটিও তাদের কাছে সুখের বলে মনে হচ্ছে। তাইতো কবির ভাষায় বলতে হয় ‘তোমাকে ভালবাসি। ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে’।