আদালতের আদেশ অমান্য করে যশোরে ৭ পরিবার উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক>
যশোরে প্রায় ১৮ বছর পর সরকারি ৩১ শতক জমির উপর বসবাসকারী ৭ টি পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে প্রশাসন। এ ক্ষেত্রে আদালতের আদেশকে অমান্য করা হয়েছে। আদালতের কারণ দর্শানোর জবাব না দিয়ে জোর করে ভিটেছাড়া করা হয়েছে। গতকাল শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগে করেন জেলা বাস্তুহারা লীগের সভাপতি আবুল কাশেম।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি শহরতলীর ঝুমঝুমপুর এলাকার ওই সরকারি জমিতে থাকা ৭টি বাড়ি ভেঙে দেয় প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আবুল কাশেম বলেন, ২০০০ সালের দিকে সরকার যশোরের ১২৫ ভূমিহীন পরিবারকে ৭ একর ২১ শতক জমি বরাদ্দ দেয় জেলা প্রশাসন। ওই জমির ৩১ শতক আমার নামে বরাদ্দের জন্য আবেদন করি। তবে শেষ পর্যন্ত আমি ওই জমি বরাদ্দ পাইনি। বাধ্য হয়ে ২০০২ সালের দিকে আমি ওই জমি দখল নিয়ে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করি। আর কিছু অংশ আবাদ করি। পরে ২০১২ সালে আমি ওই জমিটি বরাদ্দের জন্য ফের আবেদন করি। আমাকে ওই জমি বরাদ্দ দিতে প্রশাসন সার্ভেয়ার নিয়োগ করেন। কিন্তু সার্ভেয়ার আমার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি আমার সামর্থ অনুযায়ী তাকে ৩০ হাজার টাকা দিই। কিন্তু আমাকে জমিটি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, প্রশাসন আমাকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ নোটিশ দেয়। বাধ্য হয়ে আমি যশোর আদালতে মামলা করি। ২০১৪ সালে ফের আমাকে উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হয়। তখন ভ্রাম্যমাণ আদালতকে মামলার কাগজপত্র দেখালে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ হয়। সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩ নভেম্বর আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের আরো একটি নোটিশ দেয় যশোর জেলা প্রশাসন। যার জন্য আমি আবারো আদালতে যাই। আদালত জেলা প্রশাসনকে ১৫ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর সময় দেন। কিন্তু প্রশাসন তা না করে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আমাকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে। এখন আমি অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছি। জমি ফিরে পেতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবুল কাশেমের ভাইপো আমিনুল ইসলাম, সেকেলা বেগম, জাহানারা বেগম, নূর ইসলাম, রবিউল ইসলাম, শিরিন বেগম, ইকবাল হোসেন প্রমুখ।