যবিপ্রবিতে শিক্ষক সমিতির ফের প্রতিবাদ কর্মসূচি

নিজস্ব প্রতিবেদক>যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্ছনাকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রিজেন্ট বোর্ডের বিশেষ সভায় কোন সিদ্ধান্ত না নেয়ায় আবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি দিয়েছেন শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার রিজেন্ট বোর্ডের সভার পর গতকাল বুধবার সভা করেন তারা। ওই সভার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের চেয়ারম্যানরা পদত্যাগ ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইকবাল কবির জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১২ জানুয়ারী শিক্ষকমণ্ডলীকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতি ক্লাস বর্জনসহ বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহন করেছিল। উপাচার্য ও যশোরের সুধী সমাজের অনুরোধে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির আশ্বাসে ১৯ ফেব্র“য়ারি (মঙ্গলবার) রিজেন্ট বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষকমণ্ডলীকে লাঞ্ছনাকারী উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় লাঞ্ছনাকারীদের শিক্ষক নির্যাতনে উৎসাহিত করা হয়েছে বলে মনে করে যবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি।
বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে জানানো হয়, আগামী ২৩ ফেব্র“য়ারি শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, ২০ ফেব্র“য়ারি বেলা ১টা ৩০ মিনিটের পর ক্লাস না নেওয়া, শিক্ষক সমিতির বার্ষিক বনভোজন স্থগিত, আগামী রিজেন্ট বোর্ডে সুষ্ঠু বিচার না পেলে প্রভোস্ট, প্রক্টর ও ডিনদের পদত্যাগ ও সম্পূর্ণরুপে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করবে।
শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, শিক্ষকরা তাদের সুষ্ঠু বিচার পাননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সুষ্ঠু বিচার না করে তাহলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেব।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডে সভায় অ্যান্টি-র‌্যাগিংয়ের পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমিতির সাথে ছাত্রলীগ নেত্রী হুমায়রা আজমিরি ্এরিনের মধ্যে সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয় যে, অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবিরের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন রিজেন্ট বোর্ডে গ্রহণ করা হয়। এ তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিকে একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার জন্য রিজেন্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়। একইসাথে ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পেসের বাইরে র‌্যাগিং সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিজেন্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয় এবং তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ রিজেন্ট বোর্ডকে অবহিত করার প্রয়োজন নেই বলে তাঁরা অভিমত দেন।
রিজেন্ট বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের সাথে দ্বিমত পোষণ করে গতকাল বুধবার সভা করেন শিক্ষকরা।