চুয়াডাঙ্গায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় তহমিনা খাতুন নামে এক গৃহবধূকে গলাকেটে (জবাই) হত্যার দায়ে স্বামী আকাশ ওরফে মিঠুকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক মো: জিয়া হায়দার (জেলা ও দায়রা জজ) এ রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আকাশ ওরফে মিঠু (৩৪) আলমডাঙ্গা উপজেলার তিওরবিলা গ্রামের কুঠিপাড়া গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই রাতে সদর উপজেলার মোহাম্মদজুম্মা গ্রামে স্ত্রী তহমিনা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করে স্বামী আকাশ। ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা সবেদ আলী চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় আকাশ ওরফে মিঠুর নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন যৌতুকের টাকা না পেয়ে আমার মেয়েকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের পরদিন পুলিশ আলমডাঙ্গা উপজেলার তিওরবিলা গ্রাম থেকে আকাশ ওরফে মিঠুকে গ্রেপ্তার করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ এ মামলার তদন্ত শেষে অভিযুক্ত আকাশ ওরফে মিঠুর নামে একই বছরের ১০ অক্টোবর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বিজ্ঞ আদালত এ মামলায় মোট ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর সংশোধনী ১১(ক) ধারায় আকাশকে দোষী সাব্যস্ত করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিহতের মা জাহানার বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবীতে তার মেয়ে তহমিনাকে নানাভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলো আকাশ। যৌতুক না পেয়ে বিয়ের ৬ মাসের মাথায় তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়।

রায়ে তার পরিবার খুশি বলে জানান জাহানারা খাতুন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আব্দুল মালেক ও আসামি পক্ষে ছিলেন সেলিম উদ্দীন খাঁন ও মানি খন্দকার।