ভারত-বাংলাদেশ বন্ধ রেলপথ চালু হবে

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক :

ভারত-বাংলাদেশ বন্ধ রেলপথ চালু হবে

 

বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে ভারতীয় রেলওয়ের বন্ধ রেলপথ চালু হবে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। সংসদে এক প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। মঙ্গলবার প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

 

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে ভারতীয় রেলওয়ের সংযোগের জন্য ৭টি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট রয়েছে। এসব ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের মধ্যে বর্তমানে ৪টি চালু আছে এবং বাকি ৩টি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন দুটি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট চালু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে সরকারি দলের সংসদ সদস্য আলী আজমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী সংসদকে জানান, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যেসকল ইন্টারচেঞ্জ চালু রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে-দর্শনা (বাংলাদেশ-গেদে (ভারত), বেনাপোল (বাংলাদেশ)-পেট্রাপোল (ভারত), রোহনপুর (বাংলাদেশ)-সিঙ্গাবাদ (ভারত), বিরল (বাংলাদেশ)-রাধিকাপুর (ভারত)।

১ লাখ ৮ হাজার ৬১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮১টি প্রকল্প:

আলী আজমের (ভোলা-২) এক প্রশ্নের জবাবে রেলমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত  মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে  ৮১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬৪টি প্রকল্প সমাপ্ত হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এডিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ৪৫টি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প অর্থ্যাৎ ৪৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অন্তর্ভক্ত আছে। চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নযন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য  মোট ১১ হাজার ৩৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নতুন অনুমোদিত রেলওয়ে মহাপরিকল্পনায় জুলাই ২০১৬ থেকে জুন-২০৪৫ পর্যন্ত ৬টি পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য ৫ লাখ তেপান্ন হাজার ছয়শত বাষট্টি কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত আছে।

১ হাজার ১৩৫ হাজার কিলোমিটার জরাজীর্ণ রেলপথ পুনর্বাসন:

মামুনুর রশীদ কিরনের (নোয়াখালী-৩) প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৫ হাজার কিলোমিটার জরাজীর্ণ রেলপথ পুনর্বাসন করেছে।

যেসকল ইন্টারচেঞ্জ বন্ধ রয়েছে:

শাহবাজপুর (বাংলাদেশ)-মহিশাসন (ভারত) ১১ কিলোমিটারের এই ইন্টারচেঞ্জটি ২০০২ সালের ৭ জুলাই বন্ধ হয়ে যায়। ইন্টারচেঞ্জটি ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অংশ। কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইনের জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টটি বন্ধ আছে। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট এর আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে নির্মাণ কাজ চলমান।

তিনি জানান, চিলহাটি (বাংলাদেশ)-হলদিবাড়ি (ভারত) এর ৯ কিলোমিটার ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টটি ১৯৬৫ সালে বন্ধ হয়ে যায়। ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টের মাধ্যমে ভারত এর মধ্যদিয়ে নেপাল এবং ভুটানে পণ্য পরিবহণ করা সহজ। এই পয়েন্টটি পুনরায় চালু করার জন্য ভারতের সাথে রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে চিলহাটি এবং চিলহাটি বর্ডারের মধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প গতবছর ১৮ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদন হয়েছে। পূর্ত কাজেরে ঠিকাদার নিয়োগের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে এবং চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন। প্রকল্পটি সমাপ্ত হলে ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টটি চালু করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী জানান, বুড়িমারি (বাংলাদেশ)-চেংরাবান্ধা (ভারত)-এর মধ্যে ৩ কিলোমিটার ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্টটি ১৯৭১ সালে বন্ধ হয়ে যায়। বুড়িমারি স্টেশন থেকে ৩ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ এবং বুড়িমারিতে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যবস্থা চালু করলে ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশের মধ্যে এ ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট দিয়ে পণ্য চলাচল সহজতর হবে। এ লক্ষ্যে একটি ত্রি পক্ষীয় এমওইউ/প্রটোকল স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।