যশোরে শিশু তৃষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি শামীম গোলাগুলিতে নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোরে শিশু কথা আফরিন তৃষা (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আসামি শামীম (৩০) পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা দক্ষিণপাড়াস্থ সোহরাব হোসেনের রাইস দিলের পাশের ফাঁকাস্থানে এঘটনা ঘটে। পুলিশ সেখান থেকে একটি ওয়ান স্যুটারগান, এক রাউন্ড গুলি এবং ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করেছে।
শহরের পুরাতন কসবা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শেহাবুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে গোপন সূত্রে সংবাদ পান খোলাডাঙ্গার সোহরাবের মিলের পাশে ধর্ষণ মামলার আসামিরা অবস্থান করছে। সেখানে অভিযান চালানো হলে দুষ্কৃতিকারীরা টের পায়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। পুলিশও ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে সেখানে গিয়ে অজ্ঞাত (৩০) এক ব্যক্তির মরদেহ দেখতে পাই।
পরে এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে মরদেহ দেখে তা শামীমের বলে জানায়। বুধবার বিকেলে নিহতের মা তারা বেগম যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে শামীমের মরদেহ বুঝে নেন। এ সময় শামীমের মামা আসলাম হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। শামীম ধর্মতলা এলাকার দি স্যালভেশন পাড়ার প্রফুল্লের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার তার আব্দুল বারেক শেখ। তাদের বাড়ি শহরের খড়কী এলাকায়।
শেহাবুর আরো বলেন, নিহত ব্যক্তির নাম শামীম (৩০) গত ৩ মার্চ নিখোঁজ শিশু তৃষা ধর্ষণ ও হত্যার মুল আসামি বলে ধর্মতলা এলাকার দি স্যালভেশন আর্মি অফিসের পাশের গাজী পাড়ার লোকজন পুলিশের কাছে জানায়। একই অভিযোগ করেন নিহত শিশুর পিতা ওই এলাকার ইজিবাইক চালক তরিকুল ইসলাম। ফলে পুলিশ তার খোঁজ নিতে থাকে। মঙ্গলবার রাতে গোলাগুলিতে নিহত ব্যক্তিই শিশু তৃষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি বলে পুলিশ জানতে পারে। এই ঘটনায় হত্যা, অস্ত্র ও মাদক আইনে আলাদা তিনটি মামলা হয়েছে কোতয়ালি থানায়।
পরিদর্শক শেহাবুর রহমান আরো জানিয়েছেন, নিহত শামীম এর আগে আরো একটি ধর্ষণ এবং দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা দুইটি মামলার আসামি। ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল কোতয়ালি থানায় দায়ের করা ৭০ নম্বর মামলার আসামি শামীম। যেটি ধর্ষণ আইনে মামলা। অপরটি ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর কোতয়ালি থানায় দায়ের করা ১২ নম্বর মামলার আসামি শামীম। যেটি দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা।
এ দিকে আরেক সন্দেহভাজন আসামি ধৃত সাইফুল ইসলামকে তৃষা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আটক দেখিয়ে বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সাইফুল প্রাথমিকভাবে পুলিশের কাছে শিশু তৃষাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তার বিরুদ্ধে পরে রিমান্ড চাওয়া হবে বলে পরিদর্শক শেহাবুর রহমান জানিয়েছেন।
তবে পুলিশের একটি সূত্রে জানাগেছে, তৃষাকে ধর্ষণ করে তিনজন। তাও আবার একাধিকবার। মাত্র ৮ বছরের শিশুর ওপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়। ২ মার্চ বিকেলে বাড়ির পাশে মাঠ থেকে শিশু তৃষাকে ভাড়াবাড়িতে ডেকে নেয় শামীম। সেখানে বসে আগে থেকে শামীম, সাইফুল ও আরো একজন ইয়াবা সেবন করে। প্রথমে শামীম তৃষাকে ধর্ষণ করে। ছোটাছুটি করতে থাকলে শামীম তার পুরনো লুঙ্গি দিয়ে দুই হাত বেঁেধ নেয় তৃষার। এরপর সাইফুল এবং পরে আরো একজন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এতে প্রায় অজ্ঞান হয়ে যায় শিশু তৃষা। রক্তক্ষরণ হতে তাকে তার যৌনাঙ্গ দিয়ে। এরপর ফের অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি আরো একবার ধর্ষণ করে তৃষাকে। পরে তৃষা মারা গেলে তার মরদেহ একটি বস্তার মধ্যে ভরে শামীমের ঘরের পেছনে একটি গর্তের মধ্যে পুঁতে রাখে।