এক পায়ে ভর করে সন্ত্রাসী শিশির ঘোষের বিরুদ্ধে নারী সম্ভ্রমহানির চেষ্টা ও জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক>
চাঁদা না পেয়ে এক নারীর সম্ভ্রমহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যশোর শহরের ষষ্টিতলা পাড়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী শিশির ঘোষের বিরুদ্ধে। এসময় বাঁধার মুখে ওই নারীর স্বামীকে মারপিট করে মারাত্মক জখম করেছে। শনিবার বিকেলে ষষ্টিতলাপাড়ার একটি বাড়িতে এঘটনা ঘটে।
আহত ওই ব্যক্তির নাম শাহ আলম। তিনি বেনাপোলের কদমতলা এলাকার আলী হোসেনের ছেলে। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে।
শাহ আলম জানিয়েছেন, তিনি যশোরে উষা কম্পিউটারে প্রশিক্ষক হিসেবে চাকরি করেন। স্ত্রী ও এক মেয়ে নিয়ে শহরের ষষ্টিতলা পাড়ার মহাসিনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। স্ত্রী খুলনার বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে মাস্টার্স শেষ বর্ষে লেখাপড়া করে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় ছিলেন শাহ আলম। এরই মধ্যে একই এলাকার নিত্য ঘোষের ছেলে চিহ্নিত সন্ত্রাসী শিশিরের নেতৃত্বে ৫/৬ জন লোক তার বাসায় যায়। এসময় শাহ আলমের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে শিশির নিজেই তার স্ত্রীর সম্ভ্রমহানির চেষ্টা করে। এতে বাঁধা দেন শাহ আলম। শিশির তার কাছে থাকা স্ট্রেচারের ধারালো অংশ দিয়ে শাহ আলমের পেটে আঘাত করে। এরপর তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিট শুরু করে। ঠেকাতে এলে তার স্ত্রীকেও এলোপাতাড়িভাবে মারপিট করে গলায় থাকা একটি সোনার চেইন ছিনিয়ে নেয়। এসময় শাহ আলম ও তার স্ত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এলে শিশির তাকে ওই বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বলে। না গেলে খুন করা হবে বলে হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়রা শাহ আলমকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। একটি পা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে শিশির স্ট্রেচারে ভর করে ঘুরে বেড়ায় এবং পূর্বের মতো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সার্জারী বিভাগের চিকিৎসক মনিরুজ্জামান লর্ড বলেছেন, অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। ধারালো অস্ত্রের সূচালো মাথা শাহ আলমের পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারের মধ্যে ছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, শিশির একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। এলাকার এক মুসলিম তরুণীকে জোরপূর্বক বিয়ে করা এবং তার কপালে সিঁদুর পরানোর মামলায় ৪৬ বছরের কারাদ- প্রাপ্ত আসামি। সেই মামলায় কয়েক বছর কারা ভোগের পর জামিনে এসে আবারো শুরু করে খুন, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, বোমাবাজিসহ নানা ধরনের অপকর্ম।
এছাড়া শিশিরের নেতৃত্বে শহরের টিবি ক্লিনিক মোড়ে ২০১৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে চা দোকানি টিপু সুলতানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে। একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর রাতে যশোরের ছুটিপুর-এড়েন্দা রোডে প্রতিপক্ষ ‘সন্ত্রাসীদের সাথে সংঘর্ষে’ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শিশির ঘোষ ও রাব্বী ইসলাম শুভকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি দেশি পিস্তল, একটি ওয়ান স্যুটার গান এবং ১৯টি বোমা উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময়ে গুলিতে শিশিরের পায়ে মারাত্মক জখম হয়। বর্তমানে স্ট্রেচার নিয়ে চলাচল করে কিন্তু তার সন্ত্রাসী কর্মকা- এখনো থেমে নেই।
এব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেছেন, অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। সত্যতা মিললে ব্যবস্থা নেয়া হবে।