জাতির জনকের জন্মদিন আজ

রিমন খাঁন >
আজ ১৭ মার্চ। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গলী আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯ তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু। দিবসটি জাতীয় শিশুদিবস হিসেবে পালিত হবে।প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদ্যাপিত হবে। বঙ্গবন্ধুর পিতার নাম শেখ লুৎফর রহমান এবং মায়ের নাম জাতির জনকের জন্মদিন আজসায়েরা খাতুন। তাঁদের চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তৃতীয়। সেদিনের টুঙ্গিপাড়ার অজ পাড়াগাঁয় জন্মগ্রহণ করা ‘খোকা’ নামের সেই শিশুটি পরবর্তী সময়ে হয়ে ওঠেন নির্যাতিত-নিপীড়িত বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারি। গভীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, আত্মত্যাগ ও জনগণের প্রতি অসাধারণ মমত্ববোধের কারণেই পরিণতবয়সে হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু। কিশোর বয়সেই তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জের মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে শেখ মুজিব প্রথম বারের মতো গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। এরপর থেকে শুরু হয় তাঁর আজীবন সংগ্রামী জীবনের অভিযাত্রা। ব্রিটিশ উপনিবেশক শাসন অবসানের পর বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ধারাবাহিক নানা আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রতিটি অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধুর নামচির ভাস্বর হয়ে আছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি ইউনেসকো বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন। সে রাতেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধুকে কারাবন্দি করে রাখা হয়। সে সময় প্রহসনের বিচারকরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার উদ্যোগও নেয় পাকিস্তানি শাসকরা। যদিও আন্তর্জাতিক চাপের কারণে তা সম্ভব হয়নি। ৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। এরপর যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ গঠনে মনোনিবেশ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কাল রাত্রিতে সেনাবাহিনীর একদল পথভ্রষ্ট, বিশ্বাস ঘাতক সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। সেদিন বঙ্গবন্ধুর দুইকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেকেনা বিদেশে অবস্থানকরায় প্রাণে বেঁচে যান। বঙ্গবন্ধুর বড়কন্যা শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রী।
দিবসটি উপলক্ষে যশোরে কর্মসুচির মধ্যে রয়েছে সকাল ৮ টায় শহরের বকুলতলাস্থ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ম্যুরালে প্রশাসনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক,সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সাড়ে ৮ টায় কালেক্টরেট চত্ত্বরে শিশু সমাবেশ, ৯ টায় আনন্দ র‌্যালি, ৯টা ১৫ মিনিটে জেলা স্কুল অডিটোরিয়ামে আলোচনাসভা, সাড়ে ১০ পুরস্কার বিতরণ, সাড়ে ১১ টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠিান,দুপুর ১২ টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল, দিনের সুবিধামত সময়ে বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল ও ধর্মীয় উপাশসনালয়ে বিশেষ প্রার্থণা ইত্যাদী। এছাড়াও জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।