বিক্রয় চাপেও ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬৬৩৬ কোটি টাকা

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : বিনিয়োগকারীদের অব্যাহত বিক্রয় চাপে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে (১০-১৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ৭৪.৪৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতন হয়েছে। তবুও সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৬৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ডিএসইর সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে ডিএসইতে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি ১১ লাখ ১৪ হাজার ৮৯৭ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইতে ২ হাজার ৯৭৯ কোটি ৯২ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর লেনদেন কমেছিল ৩.২২ শতাংশ।

গত সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক লেনদেনও কমেছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৫৭৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। এর আগের কার্যদিবসে ডিএসইতে ৫৯৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর দৈনিক গড় লেনদেনও কমেছে।

এদিকে, সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিক্রয় চাপ আরো বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৫২টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭০টির, দর কমেছে ২৬২টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ১৮টি প্রতিষ্ঠানের।

এর আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছিল ৯৩টির, দর কমেছিল ২৩০টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টি প্রতিষ্ঠানের।

সিংহভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও সার্বিক লেনদেন কমলেও সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬ হাজার ৬৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

গত সপ্তাহের সর্বশেষ কার্যদিবসে (১৪ মার্চ) ডিএসই’র বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর আগে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে ডিএসইর প্রারম্ভিক বাজার মূলধন ছিল ৪ লাখ ১৩ হাজার ২২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এদিকে, সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৩.১৭ পয়েন্ট। সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক ৫৬৮৬.৩৮ পয়েন্টে স্থিতিশীল ছিল। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ৫৬৫৩.২১ পয়েন্টে নেমে দাঁড়িয়েছে। এসময় ডিএস-৩০ সূচক বেড়েছে ১২.৩৬ পয়েন্ট।

সপ্তাহ শেষে টার্নওভার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো। এসময় কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২৭.৩৬ শতাংশ। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির ১৮২ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টার্নওভার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ইউনাইটেড পাওয়ার, কোম্পানিটির ১৫০ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মধ্যে দিয়ে টার্নওভার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড।

টার্নওভার তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানিগুলো হলো- মুন্নু সিরামিক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিঙ্গার বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস, ফরচুন সুজ, স্কয়ার ফার্মা, ন্যাশনাল পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।