এক পা হারালো স্কুলছাত্রী নিপা, ভাঙল ডান হাত #প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ,আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরের শার্শায় পিকআপের চাপায় স্কুলছাত্রী মেফতাহুল জান্নাত নিপার (১১) ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ডান হাতটিও ভেঙ্গে গেছে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার নাভারন বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। আহত নিপা বুরুজবাগান পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেণির ছাত্রী ও বুরুজবাগান গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, দুর্ঘটনার প্রতিবাদে ৭ দফা দাবিতে দুই ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে ক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা। এসময় ঘাতক পিকআপে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকালে নিপা মোটর চালিত একটি ভ্যানে করে স্কুলের উদ্দেশ্য যাচ্ছিলো। সে ভ্যানের সামনে বসে ছিলো। তার বহনকৃত ভ্যানটি স্কুলের অদূরে নাভারন বাজার এলাকায় আসলে শার্শা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের একটি পিকআপ সামনে থেকে নিপাকে চাপা দেয়। আঘাতে ওই ছাত্রীর ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রথমে তাকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, ওই ছাত্রীকে আশংকাজনক অবস্থায় আনা হয়েছিলো। তাকে ভর্তি করেই সরাসরি অস্ত্রোপচার কক্ষে পাঠিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু জানান, স্কুল ছাত্রী নিপার শরীরে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার অবস্থা আশংকাজনক। এদিকে, দুর্ঘটনার খবর শুনে বুরুজবাগান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে। তারা শ্রেণি কক্ষ ছেড়ে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এসময় দুর্ঘটনা কবলিত পিকআপে অগ্নিসংযোগ করে তারা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসেন শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক মঞ্জু, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলক কুমার মন্ডল, এএসপি জামাল আল-নাসের, শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম মশিউর রহমান, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সালেহ্ মাসুদ করিম, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খলিল, কোষাধ্যক্ষ আলহাজ ওয়াহিদুজ্জামান প্রমুখ। তারা শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে দুই ঘন্টা পর অবরোধ তুলে নেয়া হয়। এদিকে যশোর জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল নিপাকে দেখতে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে যান। এসময় তিনি তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।