ওয়াশিংটনের স্বীকারোক্তির পর যশোরে সাফা হত্যায় ব্যবস্থাপক টুটুল ও সেলিমকে আটক দেখানো হলো

নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোরে মটর পার্টস ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম সাফা হত্যা মামলায় নতুন করে আটক দেখানো হয়েছে নিহতের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মোতালেব হোসেন টুটুলকে। একই সাথে তার ভাই আরএন রোডের সেলিম মেশিনারিজের মালিক সেলিম হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে। তারা বেজপাড়া গয়ারাম রোডের মৃত মহাসিন মিয়ার ছেলে।
এই মামলার মুল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার রেজা ওয়াশিংটনের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ওই দুই ভাইয়ের নাম আসায় তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন। ওয়াশিংটন বেজপাড়া নলডাঙ্গা রোডের চৌধুরী আলী রেজার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, ওয়াশিংটন নিহত সাফার ব্যবসায়ীক পার্টনার। আর মোতালেব হোসেন টুটুল সাফার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ছিলেন। এই হত্যাকান্ড এবং পরিকল্পনার সাথে ব্যবসায়ীক পার্টনার, ব্যবস্থাপকসহ অন্যান্যরা জড়িত। গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যার দিকে যশোর ঈদগাহের পূর্বপাশের একটি ফটোকপির দোকানের সামনে দুর্বৃত্তরা গলাকেটে হত্যা করে আরএন রোডের এইচএন এন্টারপ্রাইজের মালিক মহিদুল ইসলাম সাফা। তিনি বেনাপোলের ধান্যখোলা গ্রামের নবিছ উদ্দিন মোড়লের ছেলে। স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া খালধার রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। এই ঘটনার পর ডিবি পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শংকরপুর জমাদ্দার পাড়ার রানা ও রাকিব নামে দুই যুবককে আটক করে। তাদের দেয়া তথ্য মতে হত্যা পরিকল্পনার মধ্যস্থতাকারী শাহাবুদ্দিন নামে অপর একজনকে আটক করা হয়। শাহাবুদ্দিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াশিংটনের নাম আসে। ওয়াশিংটন এই হত্যার আগে ভারতে চলে যান। সেখানে বসে মোবাইল ফোনে শাহাবুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করতেন।
গত ১৭ জানুয়ারি ওয়াশিংটন দেশে ফিরে আত্মগোপন করেছিলেন। পরে উচ্চ আদালতে গিয়ে অগ্রিম জামিন নেন। কিন্তু পুলিশ শহরের খড়কী শাহ আব্দুল করিম সড়ক থেকে অস্ত্র গুলি ও ৫শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করে। অস্ত্র মামলায় ওয়াশিংটনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সে পুলিশকে সাফা হত্যার ঘটনার তথ্য দেন। গত বুধবার তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দেন। তার জবানবন্দী মোতাবেক মোতালেব হোসেন টুটুল ও সেলিম হাওলাদারকে আটক করা হয়। ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, সেলিম হাওলাদার মূলত সাফাকে হত্যার জন্য পরিকল্পনা করে। তার সাথে অন্যান্যরাও ছিলো। হত্যার জন্য খরচের টাকা সেলিমই দিয়েছিলেন বলে ওয়াশিংটন আদালতে জানিয়েছেন। ফলে এখন পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৬জনকে আটক করা হলো।