১১তম গ্রেডে বেতন স্কেলের দাবিতে যশোরে সহকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমাজের স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক>
বিভিন্ন দাবিতে যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি ও প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক সমাজ গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনে ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেলের দাবিতে এই স্মারকলিপি দেয়। সহকারি শিক্ষক সমাজের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালে যখন প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করেন। ওই সময় প্রধান ও সহকারি শিক্ষকগণ একই গ্রেডে বেতন পেতেন। কিন্তু ১৯৭৭ সালের ১ জুলাই সহকারি শিক্ষকদের একধাপ নিচে বেতন স্কেল নির্ধারণ করে দেয়া হয়। এরপর ২০০৪ সালে দুই ধাপ ও ২০১৪ সালে তিন ধাপ বেতন স্কেল নির্ধারণ করা হয়। এই বেতন বৈষম্য দিনদিন বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন প্রধান শিক্ষক ১১ তম ও সহকারি শিক্ষক ১৪ তম গ্রেডে বেতন পান। যার কারণে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক যে গ্রেডে যোগদান করবেন সহকারি শিক্ষক সেই গ্রেডে চাকরি শেষ করবেন। ২০১৪ সাল থেকে ১১ তম বেতন স্কেল পুনঃ নির্ধারণ করা হলে প্রধান শিক্ষকদের সাথে সহকারি শিক্ষকদের কয়েক হাজার টাকা মূল বেতন ব্যবধান থাকবে। অথচ এ বেতন বৈষম্য নিরসনের জন্য শিক্ষকরা আন্দোলন করেও কোন ফল পায়নি । তাই মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তরের সকল পদকে এন্ট্রি পদ ধরে শতভাগ পদন্নোতির ব্যবস্থা রেখে ৯ মার্চ ২০১৪ সালে ১১ তম গ্রেডের পুনঃ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জিন্নাত আলী, জেলা কমিটির সভাপতি সুদেব কুমার নাথ ও সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুকুল ইসলাম, শিক্ষক রেজা মিঠু, রবিউল ইসলাম, জিল্লুুর রহমান,লাল্টু মিয়া, আল ইমরান প্রমুখ।
অপরদিকে, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের ১০ দফা দাবিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শফিুকুল ইসলামের মাধ্যমে শিক্ষা সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে।
দাবির মধ্যে রয়েছে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী প্রধান শিক্ষকদের ১০ গ্রেডে ও সহকারি শিক্ষকদের ১১ তম বেতন নির্ধারণ, সদস্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষকদের উন্নতি স্কেলে বেতন নির্ধারণ করা, যে সকল সহকারি শিক্ষকগণ প্রধান শিক্ষক পদে চলতি দায়িত্ব পেয়েছেন তাদের পূর্বের পদকে শূন্য ঘোষণা করা, প্রাথমিক শিক্ষায় নিয়োগের ক্ষেত্রে সহকারি শিক্ষকের পদ এন্ট্রি পদ ধরে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির মাধ্যমে মহাপরিচালক পর্যন্ত পদন্নোতির ব্যবস্থা করা প্রধান শিক্ষকের পদকে ব্লক মুক্ত করে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শতভাগ পদোন্নতির ব্যবস্থা করা, প্রধান শিক্ষকদের ন্যায় বেতন প্রদান করা। এসংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মাসুদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।