কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী জেকেএলএফ-কে নিষিদ্ধ করলো ভারত

জম্মু-কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী সংগঠন ‘জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টকে (জেকেএলএফ) নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম প্রচার’ করার কারণে সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠক করেন।

তুর্কি গণমাধ্যম আনাদলু বলছে, শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব রাজিব গৌবা সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার আজ ১৯৬৭ সালের বেআইনি কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী জেকেএলএফকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের যে জিরো টলারেন্স নীতি তার অংশ হিসেবেই এটি করা হয়েছে।’

আর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিষিদ্ধের আদেশে বলেছে, ‘জেকেএলএফ ভারতের সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা বিপর্যয়ের চেষ্টায় রাষ্ট্রবিরোধী ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত।’

আনাদলু বলছে, কাশ্মীরের স্বাধীনতার পক্ষে অন্যতম বৃহৎ এ সংগঠনটির নেতা ইয়াসিন মালিককে গত মাস থেকে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত সরকার ওই অঞ্চলের স্বাধীনতাকামীদের ওপর যে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে তার অংশ হিসেবেই ওই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হলো।

এর আগে গত মাসে ভারত সরকার সামাজিক-রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন জামায়াত-ই-ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে। সেইসঙ্গে সংগঠনটির সদস্য ও স্বাধীনতাকামী অন্যান্য কর্মী মিলে তিন শতাধিক লোককে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন।

অন্যদিকে, কাশ্মীরে স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত অন্য সংগঠনগুলো ভারতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

কাশ্মীরের শীর্ষ ধর্মীয় পণ্ডিত এবং হুরিয়াত নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক টুইটারে বলেছেন, ‘জামায়াত-ই-ইসলামীর পর জেকেএলএফ নিষিদ্ধ করার কড়া নিন্দা জানাচ্ছি। কাশ্মীরবিরোধী এই কৌশলে এখানকার বাস্তবতা যেমন পরিবর্তন হবে না তেমনি জরুরি কাশ্মীর ইস্যুর সমাধানও হবে না।’

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ১৯৮৯ সাল থেকে কাশ্মীরে বিভিন্ন সংঘর্ষে হাজার হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অসংখ্য মানুষ।