মিশরের মধ্যস্থতায় হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতি

স্পন্দন আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণে থাকা হামাস কর্তৃপক্ষ মিশরের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।

ফিলিস্তিনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিলিস্তিনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই যুদ্ধবিরতি স্থানীয় সময় রাত ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মিশরের উপস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে বলা হয়েছে— ইসরাইল আর ফিলিস্তিনের স্থাপনায় এবং ফিলিস্তিনও ইসরাইলে কোনো হামলা করবে না।’

হামাস টিভিও যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইসরাইলের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর খবর প্রচার করেছে।

হামাসের মুখপাত্র ফাওয়াজি বারহুয়াম বলেন, ‘দখলদার ও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে মিশরের একটি প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।’

তবে, এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে ইসরাইল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ৫ মার্চ গাজা সিটিতে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন মিশরের ফিলিস্তিনবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থার মেজর জেনারেল আবদেল খালেদ

গত ৫ মার্চ গাজা সিটিতে হামাসের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইসমাইল হানিয়ার সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন মিশরের ফিলিস্তিনবিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থার মেজর জেনারেল আবদেল খালেদ

তবে, কাতারভিত্তিক আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, অব্যাহত হামলা-পাল্টা হামলা নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের সঙ্গে হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু, মঙ্গলবার ভোরেও গাজা এলাকায় গুলিবিনিময় এবং বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

আগামী ৯ এপ্রিল ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে প্রচারণার মধ্যেই হঠাৎ করে গাজা উপত্যকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। সোমবার ভোরে ইসরাইল গাজা উপত্যকার হামাস নেতাদের বসতি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় এবং সেখানে বিপুলসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করে।

জবাবে গাজা থেকে ইসরাইলের অভ্যন্তরে একটি রকেট হামলা চালানো হয়। এতে একটি বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং সেখানে থাকা অন্তত ৭ জন আহত হন।

এরপরই সন্ধ্যা থেকে ইসরাইল বিমান হামলা জোরদার করে। স্থানীয়রা গাজার সামুদ্রিক এলাকায় বহু বিস্ফোরণ এবং অ্যাম্বুলেন্সের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

 

স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, রকেট হামলার পর ইসরাইল দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের পূর্বে একটি কৃষিক্ষেতে বোমা ফেলে।

গাজার এক বসতি জানান, হামলার সঙ্কেত শোনার পর মানুষকে তিনি দীর্ঘমেয়াদের কথা বিবেচনায় রুটি এবং জরুরি সামগ্রী কিনতে দেখেছেন।

গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে দখলদার ইসরাইল হামাস নেতাদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়।

এতে হামাস এবং ইসলামিক জিহাদ ইন গাজা বলেছে, সীমান্তে তারা নিজেদের লোকদের ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছে। একইসঙ্গে ইসরাইলি সেনারা বিমান হামলা অব্যাহত রাখলে পাল্টা জবাব দিতেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় তারা সাইরেন বাজিয়ে তাদের জনগণকে সতর্ক করেছে।