যশোরে হামিদপুরে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা, অস্ত্রগুলি বোমা জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক>
গত ২৫ মার্চ রাতে যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুইটিসহ মোট তিনটি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে কোতয়ালি থানা পুলিশ একটি মামলা করেছে। তিনটি মামলায় মোট ২০জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
হামিদপুরের মৃত শেখ আলতাফ হোসেনের ছেলে শেখ আলী আহমেদ বাবুর দায়ের করা মামলার আসামি ৯ জন।
এরা হলেন, আব্দুল হাকিম বিশ্বাসের ছেলে ইসমাইল বিশ্বাস (৫৫), মোজাহার আলী বিশ্বাসের ছেলে হাসানুল ইসলাম (২৫), সাহাবুদ্দিনের দুই ছেলে রুহুল (২৫) ও এনামুল (৩০), মৃত মহাসিন আলী বিশ্বাসের দুই ছেলে সেলিম বিশ্বাস (৩৫) ও নাজমুল বিশ্বাস (৩০), আব্দুল হাকিম বিশ্বাসের ছেলে আজাহার আলী বিশ্বাস (৫৫), হাজের আলীর ছেলে সরোয়ার বিশ্বাস সরো (২৫) এবং হরমত আলীর ছেলে রয়েল (২০)।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে হামিদপুর শামস উল হুদা একাডেমির মাঠে আন্তঃকলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় ধারাভাষ্য নিয়ে বাদির ভাই প্রভাষক আলী আকবরের সাথে আসামি ইসমাইল বিশ্বাসের কথাকাটাকাটি হয়। এই ঘটনার জের ধরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামি হামিদপুর বাজারে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কার্যালয়ের মধ্যে ঢুকে আকবর আলীকে লক্ষ্য করে রামদা দিয়ে কোপ মারে। সেই সাথে লাঠিসোটা নিয়ে মারপিটে জখম করে। তার পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় বাদি ও তার ভাগ্নে মানিক ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। আকবর আলীকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এই ঘটনার পাল্টা মামলা করেছেন হামিদপুর পশ্চিমপাড়ার মৃত আব্দুল হাকিম বিশ্বাসের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৫৯)। এই মামলার মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এরা হলেন, আব্দুল মান্নান মোল্লার ছেলে এহসানুল হক রাজু (৩২), মৃত আমির হোসেনের ছেলে আনোয়ার হোসেন মানিক (৩৮), আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে রাসেল (২৭), শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া কবরস্থান এলাকার লিয়াকত শেখের ছেলে সাইফুল ইসলাম রাব্বি (২৯), হামিদপুর গ্রামের মৃত শেখ আলতাফ আলীর ছেলে শেখ আকবর আলী (৪৫), মৃত আমির হোসেনের ছেলে হিরা (৩০), মৃত মোতালেব হোসেনের ছেলে আব্দুর রহমান (২৫), কবির হোসেন (৩৫), মিজানুর রহমানের ছেলে শাহরিয়ার (২০), আব্দুল আজিতের ছেলে আব্দুস সামাদ (২২) এবং শহরের বারান্দী মোল্লাপাড়া এলাকার বরকত আলী (৩৯)। এছাড়াও অজ্ঞাত ১০/১২জনকে আসামি করা হয়েছে।
অপর এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৫ মার্চ বিকেলে হামিদপুর শামস উল হুদা ফুটবল একাডেমির মাঠে আন্তঃকলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতার খেলার মাঠে ইসমাইল হোসেন ও ফতেপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শরিফুল ইসলামের সাথে আসামিদের তর্কবির্তক হয়। পরে তারা হুমকি দিয়ে চলে যায়। রাত ৯টার দিকে আসামিরা একত্রিত হয়ে তার বাড়িতে (ইসমাইল) গিয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়। এবং তার ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। সে সময় পুলিশে সংবাদ দিলে পুলিশ পৌছানো মাত্র তাদের লক্ষ্য করে আসামিরা দুইটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটনায়। মেম্বার শরিফুলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়ি ভাঙচুর করে। অন্যান্যদের মারপিট করে। তার ভাইপো রয়েলকে খুন করার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারে। এতে রয়েল জখম হন। পরে পুলিশি তৎপরতায় আসামিরা পালিয়ে যায়। এরপর আহত রয়েলকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পুলিশ ঘটনার সময় আসামি রাজুকে অস্ত্রসহ আটক করে। সেই সাথে তার সহযোগি মানিক, রাসেল ও রাব্বিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ দিকে কোতয়ালি থানার এসআই সাহিদুল আলম থানায় দায়ের করা মামলায় এহসানুল হক রাজুকে আসামি করে আলাদা একটি মামলা করেছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে জানতে পারেন হামিদপুর পশ্চিমপাড়ার ইসমাইল হোসেন ও ইউপি মেম্বার শরিফুল ইসলামের বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী ভাঙচুর করছে। সেখানে গিয়ে আসামি রাজু, মানিক, রাসেল ও রাব্বিকে আটক করা হয়। রাজু দেহ তল্লাশি করে একটি ওয়ান স্যুটারগান এবং এক রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। একই সাথে সেখান থেকে একটি অবিস্ফোরিত বোমা ও বিস্ফোরিত বোমার স্পিøন্টার জব্দ করা হয়।