পাল্টে গেল যশোরের দড়াটানার চেহারা

নিজস্ব প্রতিবেদক>পাল্টে গেল যশোর শহরের প্রাণ কেন্দ্র দড়াটানার চেহারা। রইল না ভৈরব চত্বর আর চিরচেনা সেই বইয়ের দোকানগুলো। থাকলো না দড়াটানা ব্রিজের ওপারে চায়ের দোকান ও ফলের দোকানগুলো। দড়াটানার মোড় থেকে পশ্চিমে গরীব শাহ মাজারের আশেপাশের দৃশ্যপটও একই সাথে হারিয়ে গেছে। এখন দেখার অপেক্ষা কেমন নৈসর্গিক রূপ নেয় দীর্ঘ আকাঙ্খার ভৈরব নদ খনন ও সৌন্দর্য বর্ধনের পর।
যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল বলেছেন অচিরেই উদ্ধারকৃত ভৈরব নদের এ জায়গায় যশোরবাসীর জন্য কালেক্টরেট পার্কের আদলে মনোরম ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতিক্ষিত যশোরের ভৈরব নদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা সেতু সংলগ্ন এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হয়। প্রথম দিনে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১১০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৯৬টি অবৈধ স্থাপনার তালিকা করেছে। সেই তালিকা অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকাল থেকে শহরের বিপুল মানুষ ভিড় করেন শহরের দড়াটানা ও সদর হাসপাতাল মোড় এলাকায়। অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিড় সামলাতে বেগ পেতে হয় প্রশাসনকে। মৃদু লাঠিচার্জ করতে দেখা যায় পুলিশকে।
সকালে যশোরের জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীর উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। দড়াটানা সেতুর দুই পাশ থেকে বকুলতলা পর্যন্ত ও সেতু সংলগ্ন এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। যদিও আগে থেকে উচ্ছেদ অভিযানের নোটিশ প্রদান ও মাইকিং করায় বুধবার রাতের মধ্যেই অবৈধ স্থাপনার মালামাল সরিয়ে নেন মালিকরা। তারপরও উচ্ছেদ ঘিরে দড়াটানা এলাকায় নিরাপত্তা জোরাদার করা হয়। বিপুল সংখ্যক পুলিশ, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়।
জানা যায়, ২০১৬ সালে ২৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদী ‘ভৈরব রিভার বেসিন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্প’র কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৩০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৯২ কিলোমিটার খনন কাজের ৭০ কিলোমিটার কাজ চলমান রয়েছে। শহর অংশের চার কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ছাড়া খনন কাজ করা সম্ভব ছিল না। এজন্য জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ২৯৬টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় আটকে যায় উচ্ছেদ। এরই মধ্যে যশোরের নাগরিক সমাজ ভৈরব নদের শহরের অংশের দখল উচ্ছেদের দাবিতে নানা কর্মসূচিও পালন করে। অবশেষে বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে। প্রথম দিনে ১১০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছে করা হয়েছে বলে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ জাকির হোসেন। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো উচ্ছেদ করা হবে।
যশোরের জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যশোর এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগ, যশোর এর নিজস্ব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী।পাউবো এবং সওজ এর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যশোর জেলার সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি জনাব সৈয়দ জাকির হাসান এবং বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব হাফিজুল হকের সমন্বয়ে দুই সদস্যের একটি কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলের বিষয়টি নিশ্চিত করে।এবং এ সময়ে একইসাথে সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে দখলদারিত্ব এবং নদীর জায়গা ভরাট করে তাতে স্থায়ী ও অস্থায়ী নানাবিধ স্থাপনা নির্মাণ এর বিষয়টিও উঠে আসে।এরই ধারাবাহিকতায় উচ্ছেদের প্রস্তাব গৃহীত হয়।নোটিশ জারী এবং মাইকিং এর মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়।আজ সকাল ৮.৩০ মিনিট থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত চলে।বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সহকারী কমিশনার ( ভূমি) সদর, বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব নুরুল ইসলাম খোকন, কে এম আবু নওশাদ, হাফিজুল হক, মোহাম্মদ জামশেদুল আলম, কাউছার হামিদ এর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে পরিচালিত এ অভিযানে সহযোগিতা করেন র‌্যাব, পুলিশ, আনসার,ব্যাটালিয়ন আনসার গ্রাম পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ইত্যাদি।দিনব্যাপী পরিচালিত এ অভিযানে সদর হাসপাতাল থেকে বকুলতলা পর্যন্ত প্রায় ১১০ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।উচ্ছেদকৃত জায়গা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুকূলে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, অচিরেই উদ্ধারকৃত ভৈরব নদের এ জায়গায় যশোরবাসীর জন্য কালেক্টরেট পার্কের আদলে মনোরম ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে।