‘বিভ্রান্তি নেই, বনানীর আগুনে নিহত ২৫’

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক :  রাজধানীর বনানীর এফআর ভবনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিস এই সংখ্যা ১৯ জানালেও, ডিএমপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল ২৫।

তবে, শুক্রবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের এই বিভ্রান্তি দূর করেছেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত নিয়ে বিভ্রান্তির কিছু নেই। ফায়ার সার্ভিস আমাদের কাল রাতে নিহত ১৯ জানিয়েছিল। শুক্রবার সকালে ভবনের সব ফ্লোর তল্লাশি করে তারাও নিশ্চিত করেছে, ভয়াবহ এই আগুনে ২৫ জন মারা গেছেন। এদের মধ্যে ২৪ জনের পরিচয় সনাক্তের পর, স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস সমস্ত তল্লাশি শেষে আমাদের কাছে ভবন হস্তান্তর করবে। তখন আমাদের ২২টি টিম ২২টি ফ্লোরে কাজ করবে। ইতোমধ্যে ভবনের মালিক এবং ভবনের কোথায় কি ছিল, সবকিছু চিহ্নিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো তাদের মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পুলিশ অবশ্যই মামলা করবে। অপমৃত্যু না, আইনের যথাযথ ধারায় মামলা করা হবে। বিল্ডিংয়ের নির্মাণ থেকে শুরু করে সবকিছু ঠিক ছিল না, তা দেখে-বুঝে মামলা করা হবে।’

এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম, ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে আগুনে নিহতের ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেয় পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস। একপক্ষ আগুনে নিহতের সংখ্যা ২৫ জন জানালেও অন্য পক্ষ ১৯ জন দাবি করে।

নিহত নিয়ে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় গুলশান জোনের ডিসি মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘বনানীর আগুনে ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২৪ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

পরে শুক্রবার দুপুর ১২টা ২০ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তথ্য মতে, ১৯ জন মারা গেছেন।’

উপস্থিত সাংবাদিকরা পুলিশের ২৫ জন নিহতের দাবি কথা জানালে তিনি বলেন, ‘আমার জানা নেই। সবার সঙ্গে কথা বলে পর সঠিক তথ্য জানানো হবে।’

এদিকে, দুর্ঘটনা পর থেকে নিহতের সংখ্যা জানাচ্ছিল ফায়ার সার্ভিস। তারা বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তথ্য বোর্ডে ২৫ জনের কথা জানায়। কিন্তু, কিছুক্ষণ পরই সেটি সরিয়ে ১৯ করে। এরপর থেকে তারা এই তথ্যেই অনড় রয়েছে।

তবে, ডিএমপি কমিশানর আসাদুজ্জামান মিয়া নিহত ২৫ স্পষ্ট করায় সব বিভ্রান্তির অবসান হলো।