বনানীর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পুঁজিবাজারের ৪ প্রতিষ্ঠান

স্পন্দন নিউজ ডেস্ক : বনানীর এফআর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত চার প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আমরা নেটওয়ার্ক, আমরা টেকনোলজি, কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ ও মিকা সিকিউরিটিজ। এর মধ্যে আমরা টেকনোলজির যাবতীয় সরঞ্জাম পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে বলে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় আমরা টেকনোলজির অফিস ছিল। আগুনের সূত্রপাত ৯ তলা থেকে হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমরা টেকনোলজির অফিস। আসবাব থেকে শুরু করে কম্পিউটারসহ সব সরঞ্জাম পুড়ে ছাঁই হয়েছে। অবশ্য কর্মরতরা বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন ইন্টারনেটভিত্তিক দেশীয় এ প্রতিষ্ঠানটির।

শুক্রবার অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানটির সচিব এনামুল হকের সঙ্গে। তিনি পরিবর্তন ডটকমকে জানান, আল্লাহর অশেষ রহমতে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কেউ আগুনের ঘটনায় নিহত হয়নি। তবে ছয় জন আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আগুনে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে তিনি ওই সময় কিছু জানাতে পারেননি।

অগ্নিকাণ্ডের লেলিহান শিখায় শুধু ক্ষতিই হয়নি স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়েছে অনেক পরিবারের। অকালে ঝড়ে পড়লো তরতাজা ২৫ প্রাণ। এই অগ্নিকাণ্ডে পুঁজিবাজারের আরো ৩ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী আহতের পাশাপাশি প্রাণ হারিয়েছেন কাসেম ইন্ড্রাস্ট্রিজ ও মিকা সিকিউরিটিজের দুই কর্মকর্তা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এফআর টাওয়ারের ১৭ তলায় আমরা নেটওর্য়াকের অফিস। আগুনের ঘটনায় এ প্রতিষ্ঠানটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়াও এই টাওয়ারের ১৪তলায় রয়েছে মিকা সিকিউরিটিজ লিমিটেড কোম্পানির অফিস। আগুনের ঘটনায় এই অফিসে কর্মরত আবীর মারা যান। গতকাল রাত ১০টার দিকে টাওয়ারটির ১৬তলা থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।

এফআর টাওয়ারের ২১ ও ২২ তলায় কাশেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অফিস। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মঞ্জুর হাসান নিহত হন। তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ ওই অগ্নিকাণ্ডে ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৭৩ জন।